বঙ্গভঙ্গের ইতিহাস বহন করছে ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ১১:৪৮ এএম, ১৮ এপ্রিল ২০২১

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় অবস্থিত বুড়িরহাট ঐতিহ্যবাহী জামে মসজিদ। প্রাচীন স্থাপত্য শিল্পের ধারক ও বাহক বুড়িরহাট ঐতিহ্যবাহী জামে মসজিদ ইসলামী ঐতিহ্য ও কালের সাক্ষী হয়ে স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে। বৃহত্তর ফরিদপুরের ভেতর এটি ঐতিহাসিক স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন। সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের বুড়িরহাট বাজারে এ মসজিদটির অবস্থান।

উপমহাদেশে যখন বঙ্গভঙ্গ হয় তখন উৎসাহ উদ্দীপনা থেকে ১৯০৭ সালে ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদটি গোলপাতা দিয়ে তৈরি করা হয়। পরে টিন দিয়ে এবং ১৯৩৫ সালে মসজিদটির পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় একাব্বর হাওলাদার, মমতাজউদ্দিন হাওলাদার, মোবারক মুন্সী, আফতাব উদ্দিন মুন্সীসহ কয়েকজন ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদটি নির্মাণ করেন।

mouq

জনশ্রুতিতে জানা যায়, হিন্দুস্থানের টিপু সুলতানের বাড়ির মসজিদের নকশাতেই এ মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৮৬ বছর আগে এ মসজিদটি সম্প্রসারণ করে আধুনিক রূপ দেয়া হয়।

মসজিদের ভেতরের দেয়ালে সিরামিক চুর্ণ দিয়ে লতাপাতা আঁকা অসংখ্য রঙিন নকশা প্রাচীন স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন। মসজিদটির বাইরের অংশেও রয়েছে সিমেন্ট আর সিরামিকের টোরাকাটা নকশা।

mouq

মসজিদটি প্রায় ৫ কাঠা জমির ওপর অবস্থিত। সংস্কারের আগে মসজিদটি ছিল আয়তকার। তখন এর দৈর্ঘ্য ছিল ৫০ ফুট এবং প্রস্থ ছিল ৩০ ফুট। কিন্তু সংস্কারের পর মসজিদটির আকার রীতিমতো পরিবর্তিত হয়ে যায়।

বর্তমানে এটি একটি বর্গাকৃতির মসজিদ এবং সাধারণ ত্রিশ গম্বুজ বিশিষ্ট আয়তাকৃতির মোঘল মসজিদের সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। সংস্কারের পর মসজিদের চাকচিক্য ও সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়ক থেকে সুন্দর কারুকার্যময় এ মসজিদ এরিয়ায় ঢুকতে পূর্বে ও দক্ষিণে দুইটি প্রবেশপথ রয়েছে।

mouq

মসজদিটিতে ঢুকতে তিনটি প্রবেশ পথ রয়েছে। ৬টি জানালা, ২৪টি ছোট ও ৬টি বড় গম্বুজ রয়েছে। এছাড়া মসজিদের পূর্বদিকে বড় একটি মিনার রয়েছে। যার উচ্চতা প্রায় ৬০ ফুট। মসজিদটির ১০ ফুট উচ্চতা এবং ৫ ফুট প্রস্থের মেহরাব রাখার যায়গা দেখতে আকর্ষণীয় এবং সুপ্রাচীন। মেহরাবে বসে ইমাম খুতবা পাঠ করেন।

মসজিদ নির্মাণে চুন, সুড়কি, সাদা সিমেন্ট, সিরামিক ভাঙা ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়েছে। এ মসজিদের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশেই রয়েছে বাঁধানো ঘাট।

mouq

ওয়াকফকৃত সম্পদেই মসজিদ ও পাশে অবস্থিত ঈদগাহ, পশ্চিমে রয়েছে মসজিদের নামে মার্কেট, পূর্বপাশে মসজিদের ইমামের থাকার ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ চলে গেলে রয়েছে জেনারেটরের ব্যবস্থা।

সুপ্রাচীন এ মসজিদটিতে একসঙ্গে এক হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রাচীন আমলের মানুষের ইবাদত-বন্দেগি ও ইসলামি ঐতিহ্যের স্মৃতিচিহ্ন ধারণকারী বুড়িরহাট ঐতিহ্যবাহী জামে মসজিদটি ইসলামী ঐতিহ্য ও কালের সাক্ষী এবং সুপ্রাচীন ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

ছগির হোসেন/এফএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]