ভারতফেরত ৩৮০ বাংলাদেশির ঈদ হোটেলেই, দেয়া হবে উন্নত খাবার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ১১:৪৫ এএম, ১৩ মে ২০২১

রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল ফিতর। কিন্তু ঈদের দিনে যশোরের হোটেলেই থাকতে হচ্ছে ভারতফেরত ৩৮০ বাংলাদেশিকে। করোনা প্রাদুর্ভাবে সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে বিশেষ অনুমতি নিয়ে তারা দেশে ফিরেছেন। সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধির অংশ হিসেবে ১৪ দিনের প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে তাদের এই হোটেলগুলোতে অবস্থান করতে হচ্ছে। ঈদের দিন তাদের সেমাই, পোলাও, মুরগি, খাসির মাংসসহ উন্নত খাবার সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এদিকে, হোটেল কোয়ারেন্টাইন শেষে ইতোমধ্যে ৩৩০ জন বাড়ি ফিরে গেছেন।

যশোর জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ১ মে এবং পরবর্তীতে বেনাপোল বন্দর দিয়ে দেশে ফেরা করোনা নেগেটিভ বাংলাদেশিদের ঈদের দিন হোটেলেই থাকতে হচ্ছে। ফলে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন পূর্ণ না ৩৮০ জনের ঈদ কাটবে হোটেলেই।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, গত ১৭ দিনে (২৬ এপ্রিল থেকে ১২ মে) পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করেন প্রায় দুই হাজার ৮০০ বাংলাদেশি। এদের মধ্যে যশোরের হোটেলে এখন অবস্থান করছেন ৩৮০ জন।

jagonews24

ভারতফেরত রোগীদের কোয়ারেন্টাইনে রাখার জন্য যশোর জেলায় ২৯টি হোটেল রিকুইজিশন করেছে জেলা প্রশাসন। এরমধ্যে শহরের ১৬টি হোটেল রয়েছে। এগুলো হলো-যশোর শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের থ্রি-স্টার মানের আবাসিক, হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল ওরিয়ন, হোটেল হাসান ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল সিটি প্লাজা, হোটেল ম্যাগপাই, হোটেল আরএস, হোটেল মনিহার, হোটেল সোনালী, হোটেল শাহরিয়ার, হোটেল সিটি, হোটেল বলাকা, হোটেল নয়ন, হোটেল নিউওয়ে, হোটেল ম্যাক্স, হোটেল প্রিন্স। এছাড়া বেনাপোলে নেয়া হয়েছে আরও ১৩টি হোটেল। এগুলো হলো-রজনীগন্ধা, পোর্টভিউ, অ্যারিস্টোকেট, জুয়েল আবাসিক, চৌধুরী হোটেল, নিশাদ হোটেল, ফ্রেশ হোটেল, নাহিদ হোটেল, হোটেল সানসিটি, মৌ হোটেল, হোটেল সিটি, বেনাপোল পর্যটন ও রহমানিয়া হোটেল। পাশাপাশি রয়েছে ঝিকরগাছার গাজীর দরগাহ মাদরাসা।

সূত্র আরও জানায়, গত ২৬ এপ্রিল থেকে বিশেষ অনুমতি নিয়ে বেনাপোল বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ শুরু হয়। এরই মধ্যে ২৬ থেকে ২৮ এপ্রিল যারা এসেছেন তাদের কোয়ারেন্টাইন শেষ হয়েছে। ফলে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৩৩০ জন। ২৯ এপ্রিল আসা ২০৪ জন বৃহস্পতিবার (১২ মে) ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।

যশোরের জাবির হোটেল, হোটেল হাসান ও ওরিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মুনা আফরিন জানান, নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে ১৪ দিন অতিবাহিত করতে হবে। ফলে ঈদের আগে যাদের কোয়ারেন্টাইন সম্পন্ন না হবে, তাদের ঈদ হোটেলেই কাটাতে হবে।

jagonews24

এদিকে, জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, যশোরের হোটেলে থাকা ভারতফেরতদের ঈদের দিন সকালে নাস্তা হিসেবে পরোটা, সবজি, ডিম ও সেমাই সরবরাহ করা হবে। দুপুরের খাবারে থাকছে পোলাও, মুরগির মাংস, খাসির মাংস, ডিম, চাইনিজ সবজি।

ঝিকরগাছার গাজির দরগাহে কোয়ারেন্টাইনে থাকাদের কিছুদিন ধরে খাবার সরবরাহ করছে ডিভাইন গ্রুপ। ঈদের দিন সেখানে তারাই খাবার সরবরাহ করবেন। আর বেনাপোলে থাকাদের দায়িত্ব নিয়েছেন শার্শার সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন। ঈদের দিন তিনবেলাই তিনি উন্নতমানের খাবার সরবরাহ করবেন।

যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সায়েমুজ্জামান বলেন, হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে থাকা পাসপোর্টযাত্রীদের জন্য ঈদের দিন সেমাই, পোলাও, মাংসসহ উন্নতমানের খাবার সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে কোয়ারেন্টাইনে থাকা বাংলাদেশিদের এই খাবার সরবরাহ করা হবে।

মিলন রহমান/এসআর/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।