নতুন মিটার সংযোগ চাওয়ায় পরিশোধ করতে বলা হলো ১৮ বছর আগের বিল!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৭:৫৯ পিএম, ২১ জুন ২০২১

দীর্ঘ ১৮ পর দুটি ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল হাতে পেয়েছেন ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার এক গ্রাহক। তবে বিদ্যুতের লাইন ও মিটার গ্রাহক জীবিত না থাকায় বিল দুটি হাতে পেয়েছেন তার ছেলেরা।

উপজেলার পৌর সদরের গোন্দারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত হাজী আব্দুর রাজ্জাক লস্ককের নামে ১৪ ও ১৮ বছরের পুরোনো দুটি ভুতুড়ে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল হাতে পেয়ে তার ছেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

মধুখালী ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড থেকে প্রাপ্ত দুটি বিলের মধ্যে একটিতে দেখা যায়, মধুখালী উপজেলার গোন্দারদিয়া গ্রামের গ্রাহক মৃত হাজী আব্দুর রাজ্জাক লস্কর ডি-১/৬৪১২ নং ইস্যুকৃত মিটার থেকে ব্যবহৃত ২০০৩ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ১৭ হাজার ৫৭০ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। আরেকটি বিলে দেখা যায়, ২০০৭ সালের পাঁচ মাসে এক হাজার ৭০৬ টাকা বকেয়া রয়েছে। ওই গ্রাহকের মোট বকেয়া বিল এসেছে ১৯ হাজার ২৭৬ টাকা।

এ বিষয়ে মৃত হাজী আব্দুর রাজ্জাক লস্করের ছেলে মো. জাকিরুল ইসলাম লস্কর জানান, বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে আবেদনের মাধ্যমে একটি নতুন মিটার ও সংযোগ চাইলে তাকে ওই পুরোনো ভুতুড়ে বিল দুটি ধরিয়ে দেয়া হয়। কর্তৃপক্ষ তাকে জানান, পুরাতন বকেয়া বিল পরিশোধ না করলে নতুন মিটার সংয়োগ দেয়া হবে না। ১৮ বছরের পুরাতন বিল হাতে পেয়ে তিনি অবাক ও হতবাক হন।

তিনি বলেন, ‘আমার বাবা মারা গেছেন ২০১০ সালে। বাবার নামের ইস্যুকৃত বিল এতোদিন পরে কেন দেয়া হলো? এতোদিন কেন আমরা ওয়ারিশরা জানতে পেলাম না? যেখানে দুই মাস বিল না দিলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়, সেখানে এতো বছর বিল বাকি থাকে কিভাবে? এর দায়ভার কে গ্রহণ করবে?’

জাকিরুল ইসলাম লস্কর বলেন, ‘আমার নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ লাগবে। সেটিও দিচ্ছে না। বিদ্যুৎ সংযোগ না পেয়ে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে।’

এ বিষয়ে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মধুখালী আবাসিক প্রকৌশলী অশোক কুমার দাস জানান, মিটারটি মৃত আব্দুর রাজ্জাক লস্করের নামে থাকলেও এটি একটি মাদরাসা ও এতিমখানায় ব্যবহার হতো। পুরাতন এই বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের ব্যাপারে গ্রাহকের ছেলেদের ইতোপূ্র্বে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। তারা বিলটি পরিশোধ করার কথাও দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তারা সব অস্বীকার করছেন। তবে বিল পরিশোধ না করলে নিয়মমাফিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

এসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]