ফরিদপুরে চিকিৎসা নিতে গিয়ে নিখোঁজ শিশুর সন্ধান মেলেনি
ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার এক সপ্তাহেও সন্ধান মেলেনি প্রতিবন্ধী ইয়ামিনের (১৫)।
গত তিন মাস ধরে শিশুটি ফরিদপুর শহরের কমলাপুর মহল্লায় অবস্থিত শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের (বালক) নিবাসী ছিল। সে মানসিক ভারসাম্যহীন এবং বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শারীরিক নানা সমস্যার কারণে গত ৭ জুলাই বেলা ১১টার দিকে শিশু ইয়ামিনকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার জন্য নিয়ে যান শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্যারামেডিক্স মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। এরপর হাসপাতাল থেকে হারিয়ে যায় শিশুটি।
এ ঘটনায় ওই দিনই মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর চলে গেছে সাতদিন। কিন্তু বাবা-মা-আত্মীয়-স্বজনদের খোঁজ না পাওয়া, ঠিকানা না জানা ওই শিশুটির ১৪ জুলাই পর্যন্ত কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ফরিদপুর শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্যারামেডিক্স মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, কয়েকদিন ধরে শিশুটি অসুস্থ ছিল। চিকিৎসার জন্য একটি ইজিবাইকে শিশুটিকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর টিকিট কাটতে গিয়ে তিনি দেখতে পান কাউন্টারে অনেক ভিড়।
মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, ভিড়ের কারণে তিনি শিশুটিকে এক জায়গায় বসিয়ে বলেন, ‘তুমি এখানে বস, আমি টিকিট কেটে নিয়ে আসি।’ টিকেট কেটে আসতে সব মিলিয়ে সাত-আট মিনিট সময় লেগেছে। টিকিট কাটার পর তিনি শিশুটিকে যে জায়গায় বসিয়ে রেখে গিয়েছিলেন এসে দেখেন সে সেখানে নেই। অনেক খোঁজাখুঁজি করে শিশুটিকে না পেয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ওই দিনই থানায় জিডি করেন।
ফরিদপুর জেলা সমাজ সেবা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ২০০৯ সালে ডিজএ্যাবলিটি অ্যান্ড চিলড্রেন এ্যট রিক্স (ডিসিএআর) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২০১৪ সালে ৬ থেকে অনূর্ধ্ব ১৮ বছরের ফরিদপুরে বালক ও বালিকাদের জন্য পৃথক দুটি শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে ১০০ জন নিবাসীর থাকা-খাওয়া, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের সুযোগ রয়েছে। প্রতিটি শিশুকে দুই বছর পর্যন্ত প্রয়োজনীয় আশ্রয় ও সেবা প্রদানের বিধান রয়েছে।
ওই কেন্দ্রের উপ-প্রকল্প পরিচালক সৈয়দা হাসিনা আক্তার বলেন, শিশুটি হারিয়ে যাওয়ার পর আমরা বিভিন্ন স্থানে অনেক খুঁজছি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে গত সাতদিনেও আমরা শিশুটিকে পাইনি। এটি আমাদের জন্য একটি দুঃখজনক ঘটনা।
এ ব্যাপারে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক বেলাল হোসেন বলেন, পুলিশের উদ্যোগে বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে। হারানো শিশুটিকে খুঁজে বের করতে পুলিশের অভিযান এবং চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এন কে বি নয়ন/জেডএইচ/এএসএম