পুকুরে ঝাঁপ দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না নারীর
ফরিদপুরের সদরপুরে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের শৈলডুবি গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে কোহিনূর বেগম (৪৪) নামে এক নারীকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১৬ জুলাই) বিকেলের দিকে এ ঘটনা ঘটে। নির্মমভাবে হত্যার শিকার হওয়া ওই গৃহবধূর নাম । তিনি উপজেলার শৈলডুবি গ্রামের শহিদ সিকদারের সাবেক স্ত্রী। তিনি দীর্ঘদিন লেবাননে ছিলেন।
এলাকাবাসী ও থানা সূত্রে জানা গেছে, ১০ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়ে যায়। শাকিবুল সিকদার (১৩) নামের কোহিনূর বেগমের এক সন্তানও আছে। দীর্ঘ প্রায় চার বছর লেবাননে থাকার পর দেশে ফিরে তিনি শৈলডুবি গ্রামের ইউনুস সিকদারের কাছ থেকে ১৪ শতাংশ জমি ক্রয় করেন।
নিজের ক্রয়কৃত জমিতে কোহিনূর বেগম একটি টিনের ঘর তুলে ছেলে শাকিবুলকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। তবে ১৪ শতাংশ জমি তাকে মেপে বুঝিয়ে দেননি ইউনুস। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে কোহিনূর তার জমির একটি আমগাছ কাটতে গেলে বাধা দেন ইউনুস। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে ইউনুস সিকদার ও তার ছেলে জাহিদ সিকদার কোহিনূর বেগমকে বাঁশ দিয়ে পেটাতে শুরু করেন। পিটুনি থেকে বাঁচতে কোহিনূর দৌড়ে প্রতিবেশীর রান্নাঘরে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে ইউনুস ও জাহিদ কোহিনূর বেগমকে টেনে হিঁচড়ে বের করে এনে আবার পেটাতে শুরু করেন।
এরপর কোহিনূর বেগম বাঁচার জন্য পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। ওই সময় ইউনুস ও জাহিদ পুকুর থেকে কোহিনূর বেগমকে তুলে আবার মারতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলেই কোহিনূরের মৃত্যু হয়।
কোহিনূরের ছেলে শাকিবুল সিকদার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মাকে ইউনুস ও তার ছেলে জাহিদ পিটাইয়া মাইরা ফেলছে। গ্রামের একটা লোকও আমার মাকে বাঁচাতে আগাইয়া আসে নাই। আমরা টাকা দিয়ে জমি কিনছি। আমাগো জমি বুঝায় দেয়া হয় নাই। আমার মায়ের হত্যার বিচার চাই।’
স্থানীয় কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বিরোধ মীমাংসার জন্য একাধিকবার দুপক্ষ সালিশও করেছে।’
এ বিষয়ে শনিবার (১৭ জুলাই) সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত গোলদার বলেন, ‘এক নারীকে পিটিয়ে হত্যা করা হলেও কেউ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। কোহিনূরের মরদেহ শুক্রবার উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ শনিবার সকালে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
ওসি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় সদরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ইউনুস সিকদার ও তার ছেলেসহ পরিবারের সব সদস্য পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারের জন্য জোরালো অভিযান চালানো হচ্ছে।’
এন কে বি নয়ন/এসজে/জিকেএস