খননের পর দেবে গেছে সেতু, হুমকিতে খালপাড়ের রাস্তা-বসতবাড়ি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ০৯:০২ পিএম, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২
ব্রিজের মাঝামাঝি দেবে গেছে, দেখা দিয়েছে ফাটলও

দীর্ঘদিন ধরে দেবে আছে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার একটি ব্রিজ। ব্রিজের চারপাশে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। ব্রিজের সংযোগ সড়ক থেকে সরে গেছে মাটি। এতে বন্ধ আছে ভারী যানবাহন চলাচল। ঝুঁকি নিয়ে চলছে হালকা যানবাহন ও সাধারণ মানুষ। যে কোনো মুহূর্তে ব্রিজটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এছাড়া খালপাড়ের মাটি ধসে হুমকিতে রয়েছে চলাচলের রাস্তা ও শতাধিক বসতবাড়িও।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অপরিকল্পিত খাল খননে এমনটা হয়েছে বলে অভিযোগ জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের। তবে পাউবোর দাবি, খননের কারণে ব্রিজ ও খালপাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। ব্রিজ এলাকায় ডিজাইন লেভেলে না গিয়ে সতর্কতার সঙ্গে খনন কাজ করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালের শেষ দিকে উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নে পদ্মা নদী থেকে বসন্তপুর আরিফ বাজার পর্যন্ত ১৭.৭ কিলোমিটার খাল খননের কাজ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ২১ সালে শেষ হয় খনন কাজ।

এদিকে ইউনিয়নের পিয়ার আলী মোড়ে তেনাপচা আশ্রয়ণ ইউজেড-আরএইচডি সড়কের জন্য তেনাপচা খালের ওপর ২০০৩ সালের দিকে নির্মাণ করা হয় ব্রিজ। যা এখন ভাঙন হুমকিতে।

jagonews24

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির মাঝখানে এবং দুই পাশ ভেঙে দেবে গেছে। সেতুর নিচে একাধিক জায়গায় বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। সেতুর এক পাশের সংযোগ সড়কের বেশ খানিকটা মাটিও সরে গেছে। এই অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে মাহিন্দ্রা, রিকশা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মতো হালকা যান করছে। পথচারীরাও পারাপার হচ্ছেন।

এছাড়া সেতু সংলগ্ন তেনাপচা কবরস্থানমুখী খালপাড়ের রাস্তার অনেকাংশ ধসে হুমকিতে রয়েছে বসতবাড়ি। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড রাস্তা ও বসতবাড়ি রক্ষায় প্যালাসাইডিংয়ের জন্য পাইলিং করে রেখেছে।

স্থানীয়রা জানান, বছর দুয়েক আগে খালটি এক্সেভেটর দিয়ে খনন করা হয়। সে সময় পর্যাপ্ত জায়গা ও ঢালু না রেখে মাটি কাটায় আজ ব্রিজটি ভেঙে যাচ্ছে। এখন ঝুঁকি নিয়েই সবাই চলাচল করছে। দ্রুত ব্রিজটি মেরামত বা নতুন করে ব্রিজ নির্মাণের প্রয়োজন।

এছাড়া বর্ষায় খাল দিয়ে পানি প্রচণ্ড বেগে প্রবেশ করায় এক কিলোমিটার এলাকায় দুই পাশ ধসে পড়েছে। সে সময় বেশ কয়েকটি পরিবার অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হয়। এখনো চলাচলের রাস্তা ও শতাধিক বসতবাড়ি ভাঙন হুমকিতে রয়েছে। রাস্তা ও বাড়ি-ঘর রক্ষার্থে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয়রা।

গোয়ালন্দ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের খননে তেনাপচার সেতুর নিচে দিয়ে পানি প্রবেশ করে মাটি সরে গেছে। এতে ব্রিজটি ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এ ব্রিজের মেয়াদকাল আরও বেশি ছিল। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিকল্পিত খননের ফলে সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ওই এলাকার রাস্তা ও বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে।

jagonews24

ভাইস চেয়ারম্যান আরও বলেন, রাস্তা, বসতবাড়ি, কবরস্থান রক্ষার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ডে আবেদন করে প্যালাসেইডিং করে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছ। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রোকৌশলী ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ পরিদর্শনের পর বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করেন। সে জায়গায় আরেকটি নতুন সেতুর প্রকল্প করে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন তারা। এ ব্রিজ অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। সবার স্বার্থে দ্রুত ব্রিজটি হওয়া প্রয়োজন।

গোয়ালন্দ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু সাঈদ মন্ডল জাগো নিউজকে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিকল্পিত খাল খননের ফলে তেনাপচা এলাকার কয়েক কিলোমিটার খালের পাড় ধসে পড়ে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে পিয়ার আলী চেয়ারম্যান এলাকার খালের ওপর ২০০৩ সালের দিকে নির্মিত ব্রিজের নিচের মাটি সরে চারপাশে ফাটল দেখা দিয়েছে। বর্তমানে ব্রিজটির দুই পাশের সড়ক এলজিইডির। সঙ্গতকারণে এলজিইডি ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজটি অপসারণ নতুন ব্রিজ নির্মাণের প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রোকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর জাগো নিউজকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ এলাকায় ডিজাইন লেভেলে না গিয়ে সতর্কতার সঙ্গে খনন কাজ করা হয়েছে। কিন্তু ওই জায়গাটি সংকীর্ণ এবং মাটি দুর্বল হওয়ায় খালে নেমে আসার অবস্থা হয়েছিল। সেগুলো রক্ষার্থে অস্থায়ী প্যালাসাইডিং ও প্রতিরক্ষা কাজ শুরু করা হয়েছে। ব্রিজের জায়গাও দুর্বল ছিল। বিষয়টি সে সময় উপজেলা প্রোকৌশলীকে জানানো হয়েছিল।

তবে খননের কারণে সেতু ও খালপাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করেন না তিনি।

রুবেলুর রহমান/এসজে/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।