মাইকে ডেকে দুস্থদের খাওয়ানো হচ্ছে ইফতার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৮:৩২ পিএম, ১০ এপ্রিল ২০২২
নারায়ণগঞ্জে মাইকে ডেকে দুস্থদের ইফতার করানো হচ্ছে

মাহে রমজান। সময় সন্ধ্যা ৬টা। একদল তরুণ-তরুণী খোলা আকাশের নিচে ইফতারি তৈরি করছেন। নানাজন নানাকাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ প্লেট পরিষ্কার করছেন, কেউ শরবত বানাচ্ছেন, কেউ আপেল কাটছেন আবার কেউ সারিবদ্ধভাবে রাখা প্লেটে মুড়ি, ছোলা, পিঁয়াজু, বেগুনি দিচ্ছেন।

পাশাপাশি এক তরুণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে মাইক দিয়ে রিকশাচালক, দিনমজুর, ভিক্ষুক ও অসহায় মানুষজনকে ডাকছেন ইফতার করার জন্য। যারা দুর্বল কিংবা চোখে দেখতে পান না তাদের হাত ধরে এনে ইফতারে বসাচ্ছেন। এভাবে সবাই মিলে এক সারিতে বসে নির্ধারিত সময়ে মুক্ত ইফতার করেন তারা।

রোববার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ শহরের জামতলা এলাকার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে এমন দৃশ্য চোখে পড়লো। ‘মুক্ততরী’ নামে একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এই ইফতারের আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পেটভরে তৃপ্তি নিয়ে ইফতার করছেন।

jagonews24

তরুণ-তরুণীদের এই উদ্যোগ দেখে উৎসাহিত হয়ে স্থানীয় মো. জাহাঙ্গীর নামে একজন মুরুব্বিও যোগ দিয়েছেন তাদের সঙ্গে। তিনিও তাদের সঙ্গে বিভিন্ন কাজকর্মে অংশ নেন।

জাহাঙ্গীর বলেন, তাদের এই উদ্যোগ আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। তাই আমিও তাদের সঙ্গে অংশ নিয়েছি। এটা খুবই ভালো কাজ। অনেক অসহায় মানুষ আছে যারা ইফতার করতে পারেন না। তাদের পাশে দাঁড়াতে পেরে নিজেরও ভালো লাগছে।

মুক্ততরীর সভাপতি জয় দত্ত আশীষ বলেন, পুরো রমজান মাসজুড়েই আমাদের এই কার্যক্রম চলবে। আমরা বিকেল থেকেই সব প্রস্তুত করতে থাকি। ইফতারের আগে প্লেটগুলো সাজিয়ে আমরা মাইকিং করতে থাকি। এই মুক্ত ইফতারের মাধ্যমে আমরা চেষ্টা করছি যেসব রিকশাচালক বা হতদরিদ্র মানুষ কষ্ট করে হলেও রোজা রেখেছেন অথবা যেসব মানুষ রোজা রেখেও ইফতারের সময় তাদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি তাদের জন্য কিছু করতে।

মুক্ততরীর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বরুপ সেন গুপ্ত বলেন, আমরা এখানে যারা কাজ করি সবাই ছাত্র। আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।

সদস্য পুষ্পিতা সাহা বলেন, আমরা এখানে সবাই স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করে থাকি। আমাদের সঙ্গে যারা কাজ করেন তারা সবাই শহরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি যদি অসহায় মানুষের জন্য কিছু করা যায় সেটাই অনেক বড় পাওয়া। যদি আমাদের সঙ্গে কেউ অংশ নিতে চায় তাদেরও আমরা স্বাগত জানাবো।

jagonews24

ইফতার করতে আসা শফিক নামে একজন বলেন, আমি আগে বাবুর্চির কাজ করতাম। কিন্তু এখন কিছু করতে পারি না। মানুষের কাছ থেকে সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে চলি। শুনেছি এখানে ইফতার করানো হয়। এসে পেটভরে ইফতার খেয়েছি।

নুর মোহাম্মদ নামে আরেকজন বলেন, আমি অন্ধ। চোখে দেখি না। আমার হাত ধরে নিয়ে এসে এখানে ইফতার করিয়েছে। যারা এই ইফতারি করিয়েছে তাদের মঙ্গল কামনা করি।

মোবাশ্বির শ্রাবণ/এমআরআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।