নিয়োগ পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর জানার দাবিতে চাকরিপ্রার্থীর অবস্থান
নিয়োগ পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর এবং সর্বনিম্ন কত নম্বর পর্যন্ত বাছাই করা হয়েছে তা উল্লেখ করে এসএমএসের মাধ্যমে জানানোর দাবিতে ফরহাদ হোসেন নামের এক চাকরিপ্রার্থী নারায়ণগঞ্জে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
দাবি আদায়ে গত দুদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান করছেন ফরহাদ। তিনি জানিয়েছেন, মাসব্যাপী এ কর্মসূচি চলবে। অন্যান্য চাকরিপ্রার্থী শিক্ষার্থীদেরও তার কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ফরহাদ।
ফরহাদ হোসেন নারায়ণগঞ্জ তোলারাম কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০১৬ সালে অনার্স এবং ২০১৭ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। কয়েক বছর ধরে তিনি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে চাকরির আবেদন করে যাচ্ছেন। কিন্তু তার অভিযোগ, কোথাও তাকে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর এবং কত নম্বর পর্যন্ত বাছাই করা হয়েছে তা জানানো হয় না। এতে একের পর এক পরীক্ষা দিয়ে তার টাকা খরচ হচ্ছে। পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর না জানার কারণে তিনি প্রস্তুতিও নিতে পারছেন না।
ফরহাদ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভালো পয়েন্ট অর্জনের মধ্যদিয়ে আমি অনার্স এবং মাস্টার্স সম্পন্ন করেছি। উচ্চশিক্ষা লাভ শেষে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চাকরির জন্য আবেদন করতে থাকি। শুধু আমিই না, আমার মতো দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থী অনার্স-মাস্টার্স শেষে বিভিন্ন পদের জন্য আবেদন করে আসছেন। সেখানে তাদের খরচ হয় ৭০০-৮০০ টাকা। কিন্তু দুঃখের বিষয় যখন নিয়োগ পরীক্ষাগুলো হয়, আমরা এত টাকা দিয়ে আবেদন করি অথচ আমরা ওই পরীক্ষায় কত মার্ক পেলাম তা জানতে পারি না।’
তিনি বলেন, টাকা দিয়ে আমরা আবেদন করছি কিন্তু চাকরি হোক বা না হোক পরীক্ষার মার্কটা জানার অধিকার কিন্তু আমাদের রয়েছে। তাই জনবল নিয়োগ কর্মকর্তা যারা রয়েছেন তারা যেন আমার এ দুটি দাবি বাস্তবায়ন করেন।
দাবির যৌক্তিকতা প্রসঙ্গে এ চাকরিপ্রার্থী বলেন, ‘কে কত মার্ক পেল সেটা যদি জানিয়ে দেওয়া হয় তাহলে আমরা আমাদের পড়াশোনা সম্পর্কে অবগত হতে পারি। সেইসঙ্গে আমাদের পড়াশোনা কতটুকু অগ্রগতি হলো পরীক্ষা খারাপ হলে কোন জায়গাতে আমাদের ক্রুটি রয়ে গেলো সেটা বুঝতে পারবো। যেহেতু আমরা টিউশন করে অনেক কষ্টের টাকা দিয়ে নিজেদের পড়ালেখার খরচ চালাই ও চাকরির আবেদনের খরচ করি, সেক্ষেত্রে যদি আমরা আমাদের মার্কটা জানতে না পারি এর থেকে আর দুঃখের কিছু নেই।’
ফরহাদ হোসেন বলেন, আমার দুটি দাবির প্রথমটি হচ্ছে জনবল নিয়োগে যেসব পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন তাদের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর তা জানিয়ে দাওয়া। দ্বিতীয় দাবি হচ্ছে নিয়োগ পরীক্ষায় সর্বনিম্ন কত নম্বর পর্যন্ত বাছাই করা হয়েছে তা জানিয়ে দেওয়া। আমি চাই আমার এ দাবি পূরণে সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে আসবেন।
মোবাশ্বির শ্রাবণ/এসআর/জেআইএম