গরমে রাজশাহীতে বেড়েছে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা
চাকরিজীবন শেষে সম্প্রতি অবসরে গেছেন মুজিবুর রহমান। থাকেন পদ্মা আবাসিক এলাকায়। চার দিন আগে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ পায়ের পাতা ও আঙুলের সমস্যার কারণে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৩১ নম্বর (অর্থোপেডিক) ওয়ার্ডে ভর্তি হন। ভর্তির দুদিনের মধ্যে নতুন করে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন মুজিবুর রহমান। তিনিসহ তার পরিবার এখন দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
হাসপাতালে এখন ভর্তি রোগীদের একটি অংশ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। যাদের কেউ বাইরে থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এসেছেন, নয়তো হাসপাতালে অন্য রোগের চিকিৎসা নিতে এসে এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। আর এসব রোগীদের সামাল দিতে বেগ পেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।
রাজশাহীতে এবার গ্রীষ্মের শুরু থেকেই প্রচণ্ড গরম। বর্ষা পেরিয়ে গেলেও বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় এবার তপ্ত প্রকৃতিকে শান্ত করতে পারেনি বর্ষাকাল। তারপর চলছে ভাদ্র মাস। একেতো চরম গরম, তার ওপর ঘনঘন লোডশেডিং। সবমিলিয়ে গরমজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন নগরবাসী।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে ভর্তি বেশিরভাগ ডায়রিয়া রোগীকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কিছু রোগী ওয়ার্ডের শৌচাগারের পাশের মেঝেতে থাকছেন নিজেদের সুবিধার্থে।
রামেকের তথ্যমতে, হাসপাতালের মেডিসিন ও শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা ৬৩ জন। যাদের মধ্যে ২৮ জনই শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ২০ জন। সুস্থ হয়েছেন ৩৩ জন। মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) এই সংখ্যা ছিল ৭৬ জন। যাদের মধ্যে ৩৪ জন ছিল শিশু ছিল।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. শামীম ইয়াজদানী জাগো নিউজকে জানান, হাসপাতালে প্রতিদিন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। করোনার চেয়ে এখন ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যাই বেশি। এর অন্যতম কারণ প্রকৃতিতে এখন চরম গরম বিরাজ করছে। বর্ষা পেরিয়ে গেলেও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়নি। সেইসঙ্গে মানুষের মধ্যে অসচেতনতাও এই রোগ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
তিনি বলেন, গরমের সময় আমাদের খাদ্যাভাসে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। তাছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। শিশুদের প্রতি যত্নবান হতে হবে। পাশাপাশি হাতের কাছে সবসময় ওরস্যালাইন রাখার পরামর্শ দেন রামেক পরিচালক।
এসআর/জেআইএম