ঈদ আনন্দ কেড়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার: ডা. শাহাদাত
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, সারাদেশের মানুষ ঈদ উদযাপন করতে পারেনি। ঈদের যে আনন্দ, তা আওয়ামী লীগ সরকার কেড়ে নিয়েছে। ঈদের খুশির পরিবর্তে ঘরে ঘরে আজ মানুষের আর্তনাদ। আওয়ামী লীগের গুম-খুনের শিকার মানুষের ঘরে আজ ঈদের আনন্দ নেই। স্বজনহারা পরিবারের আনন্দ কেড়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ।
রোববার (২৩ এপ্রিল) চট্টগ্রাম মহানগরীর কাতালগঞ্জ কিশালয় কমিউনিটি সেন্টারে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশে এখন নীরব দুর্ভিক্ষ চলছে মন্তব্য করে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক এক সমীক্ষা অনুযায়ী- বাংলাদেশের ৩৭ শতাংশ জনগোষ্ঠী কোনোভাবে একবেলা খেয়ে দিনযাপন করছে। দ্রব্যমূল্যের ঊধ্বগতির সঙ্গে যোগ হয়েছে বিদ্যুৎ, গ্যাস, ওয়াসার মূল্যবৃদ্ধিও। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাগারে, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, লায়ন আসলাম চৌধুরীসহ অসংখ্য নেতাকর্মী আজ কারাগারে, পরিবার থেকে দূরে। এক লাখ মামলায় বিএনপির ৩৪ লাখ নেতাকর্মী আসামি।’
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছে। মানুষের ভোটের অধিকার নেই, কথা বলার অধিকার নেই। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নামক কালো আইনের মাধ্যমে। আজকে মিডিয়া সত্য প্রকাশ করতে পারছে না, মানুষ সরকারের অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললেই তার টুঁটি চেপে ধরা হচ্ছে এ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে।
বিএনপির এ নেতা বলেন, আমাদের সংবিধানে মতপ্রকাশের অধিকার থাকলেও বাকশালি সরকার তা হরণ করেছে। রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিজেদের অবৈধ ক্ষমতার মসনদ টিকে রাখার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। যার কারণে আমেরিকা এসব বাহিনীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বিএনপি জনগণের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করে যাচ্ছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার, গণতান্ত্রিক অধিকার সর্বোপরি সাংবিধানিক অধিকার আদায়ে আন্দোলন করছে। আগামীতেও জনগণের দল হিসেবে বিএনপি জনগণের অধিকার আদায়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নেতৃত্ব দেবে। জনগণের অধিকার আদায় করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেনের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বিনিময়ের আয়োজন করা হয়। বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা এসে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
শুরুতেই বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু, সুস্থতা ও রোগমুক্তি কামনা করে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, এস এম ফজলুল হক, এম নাজিম উদ্দিন, প্রফেসর সিদ্দিক আহমেদ, জাহাঙ্গীর আলম, একরামুল করিম, হুম্মাম কাদের, সাথী উদয় কুসুম বড়ুয়াসহ মহানগর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং পেশাজীবীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ আজিজ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, আবদুস সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দীন, এস এম সাইফুল আলম, নাজিমুর রহমান, পেশাজীবী নেতা এনামুল হক, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি, ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী, অধ্যাপক নসরুল কদির, সেলিম মো. জানে আলম, অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দিন মানিক, মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু, বিভাগীয় শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক শেখ নুরুল্লাহ বাহার, মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি, সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী, নগর শ্রমিকদলের সভাপতি আবু তাহের, মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম প্রমুখ।
ইকবাল হোসেন/এএএইচ/জিকেএস