সিলেট সিটি নির্বাচন

সম্পদে এগিয়ে নজরুল, শিক্ষায় আনোয়ারুজ্জামান-মাহমুদুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৩:৫২ পিএম, ২৫ মে ২০২৩
মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও মাওলানা মাহমুদুল হাসান

সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে ছয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার (২৫ মে) দুপুরে সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রার্থিতা যাচাই-বাছাই শেষে এ ঘোষণা দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফয়সল কাদির।

মনোনয়ন বৈধ হওয়া প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী (নৌকা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হাফিজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান (হাতপাখা) ও জাকের পার্টির প্রার্থী মো. জহিরুল আলম, স্বতন্ত্রপ্রার্থী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ আবদুল হানিফ কুটু, স্বতন্ত্রপ্রার্থী মো. ছালাহ উদ্দিন রিমন।

এদিকে যাচাই-বাছাইয়ে পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এদের সবাই স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। তারা হলেন- সামছুন নুর তালুকদার, মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান খান, মাওলানা জাহিদ উদ্দিন, মো. শাহজাহান মিয়া, মোশতাক আহমেদ রউফ মোস্তফা।

নির্বাচনে বিএনপি দলীয় বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নির্বাচনে না আসায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে নৌকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় আছেন জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুলও। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ তিন প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদশালী জাতীয় পার্টির প্রার্থী শিল্পপতি মো. নজরুল ইসলাম (বাবুল)। তার বার্ষিক আয় ৬৭ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৯ টাকা। তবে তিনি হলফনামায় নিজেকে স্বশিক্ষিত বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে, শিক্ষাগত যোগ্যতায় এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান। আনোয়ারুজ্জামান বিএ সম্মান এবং মাহমুদুল হাসান এলএলবি পাস।

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তাদের হলফনামায় সম্পদের হিসাব দিয়েছেন। এতে প্রার্থীর ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি তাদের আয়, আয়ের উৎস, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, মামলা, দেনাসহ বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন।

সিলেট সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফয়সল কাদির জাগো নিউজকে বলেন, যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তারা আগামী তিন দিনের আপিল করতে পারবেন।

হলফনামায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী নিজেকে বিএ (সম্মান) পাস বলে উল্লেখ করেন। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। বার্ষিক আয় ২ লাখ ৯৫ হাজার ৮৪ টাকা।

এছাড়া আনোয়ারুজ্জামানের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদই আছে ৪১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৪৮ টাকা। এর বাইরে অস্থাবর সম্পদের মধ্যে দুটি টিভি, একটি রেফ্রিজারেটর, দুটি এয়ার কন্ডিশনার (এসি) এবং দুই সেট সোফা, চারটি খাট, একটি টেবিল, ১০টি চেয়ার ও দুটি আলমারি আছে।

তার স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে আছে ৪৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার। আনোয়ারুজ্জামানের স্থাবর সম্পদের মধ্যে তিন বিঘা কৃষিজমি, ২৩ শতক অকৃষিজমি, একটি দালান ও একটি বাড়ি বা ফ্ল্যাট আছে। তবে তার কোনো দায় বা দেনা নেই।

স্বশিক্ষিত জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম বাবুল পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি ফিজা অ্যান্ড কোং লিমিডেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মেসার্স ফিজা এক্সিমের ব্যবস্থাপনা অংশীদার, পাথর আমদানিকারক ও দৈনিক একাত্তরের কথা এর প্রকাশক। বাবুলের বার্ষিক আয় ৬৭ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৯ টাকা।

বাবুলের ২ কোটি ৩৪ লাখ ৫১ হাজার ৯৬৩ টাকার অস্থাবর সম্পদ আছে। পাশাপাশি অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি, একটি টয়োটা প্রাডো, চারটি কার্গো ভ্যান, আটটি কাভার্ড ভ্যান ও একটি মোটরসাইকেল আছে।

এ ছাড়া তার স্ত্রীর নামে ২১ লাখ ১২ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ আছে। নজরুলের স্থাবর সম্পদের মধ্যে ১৩৫ দশমিক ৭৮ শতক অকৃষিজমি, একটি ফ্ল্যাট এবং চারটি পাকা ও টিনশেড বাড়ি আছে। এছাড়া তার ব্যাংক ঋণ আছে পাঁচ কোটি ২৯ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৭ টাকা।

বাবুলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটা মামলা তদন্তাধীন। এ ছাড়া অতীতে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হলেও সেগুলো থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান এলএলবি পাস। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। তাঁর বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে একটা মামলা হলেও বেকসুর খালাস পেয়েছেন। তাঁর কোনো দায় বা দেনা নেই। মাহমুদুল হাসানের ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ আছে।

তার স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে আছে ২০ ভরি স্বর্ণালংকার। স্থাবর সম্পদের মধ্যে মাহমুদুলের যৌথ মালিকানায় বাণিজ্যিক দোকান ও বাড়ি আছে। এসব সম্পদের ৬ ভাগের ১ অংশ তার।

এবিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, প্রার্থীরা হলফনামায় সঠিক তথ্য দিয়েছেন কি না, সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করা উচিত। ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিলে সেটিও জনগণকে জানানো উচিত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। হলফনামার কারণে ভোটাররা যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে সহায়ক হয়।

ফারুক মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, সিলেটকে বলা হয় দ্বিতীয় লন্ডন। প্রবাসী-অধ্যুষিত এঅঞ্চলের অনেক প্রার্থীর বিদেশে নাগরিকত্বও আছে। তাই হলফনামায় আরও কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। যেমন বিদেশি নাগরিকত্ব আছে কি-না, থাকলে সেখানকার সম্পদ ও আয়ের বিস্তারিত বিবরণ।

ছামির মাহমুদ/এসজে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।