লিবিয়ায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত আব্দুর রহিমের বাড়িতে শোকের মাতম


প্রকাশিত: ০৯:৫৯ এএম, ২৮ মার্চ ২০১৬

লিবিয়ায় পূর্বাঞ্চলীয় শহর বেনগাজীতে সরকারি সেনাদের সঙ্গে বিদ্রোহী বাহিনীর সংর্ঘষে ৪ বাংলাদেশী নিহত হবার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে রাজবাড়ীর ২ জন থাকলেও আব্দুর রহিম ব্যাপারী (২৬) নামে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি মারা গেলে দেশের বাড়িতে জানাজানি হয় নিহত আব্দুর রহিমের সহকর্মী মো. বিল্লালের মুঠোফোনের মাধ্যমে রোববার দুপুরে। ঘটনাটি জানাজানির পর থেকেই ঐ এলাকায় চলছে শোকের মাতম।

নিহত রহিম জেলা সদরের বরাট ইউনিয়নের নবগ্রাম এলাকার মো. মসলেম ব্যাপারীর ছেলে। পরিবারের ৪ ভাই বোনের মধ্যে রহিম বড়। আব্দুর রহিমের মো. হাসান ব্যাপারী নামে ৪ বছরের একটি শিশু সন্তান রয়েছে। উপার্যনক্ষম এই ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটি যেন দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

সোমবার দুপুর ২টার দিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মাহবুবুর রহমান নিহতের বাড়ি যান এবং তার পরিবারকে আশ্বস্ত করেন যত দ্রুত সম্ভব সরকারি ব্যবস্থাপনায় মরদেহ দেশে আনার ব্যাবস্থা করা হবে।

পরিবার সুত্রে জানা যায়, প্রায় সাড়ে ৪ বছর আগে দেশ ছেড়ে মিশরে পাড়ি জমিয়েছিলেন আব্দুর রহিম। সেখানে ৭/৮ মাস কাজ করার পর দালালের মাধ্যমে লিবিয়াতে যান। টাইলস এর ফ্যাক্টরিতে কাজ করে ভালই চলছিল রহিমের প্রবাস জীবন। হঠাৎ শুক্রবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজ শেষ করে বাসায় ফেরার পথে লিবিয়ায় পূর্বাঞ্চলীয় শহর বেনগাজীতে সরকারি সেনাদের সঙ্গে বিদ্রোহী বাহিনীর সংর্ঘষের মধ্যে পড়ে ৪ বাংলাদেশী নিহত হন। তার মধ্যে গুলি লেগে আব্দুর রহিম মারা যায়। এ ঘটনাটি রোববার রহিমের সহকর্মী বিল্লাল মুঠোফোনে জানান।

নিহত রহিমের বাবা মো. মসলেম ব্যাপারী জানান, আমরা আমাদের ছেলের মরদেহ চাই তাকে যেন দেশে ফিরিয়ে আনা হয় । শেষ বয়সে ছেলের মরদেহ নিজে হাতে দাফন করতে চাই।

মা রাহেলা বেগম জানান, আমার ছেলের মরদেহ চাই। রহিমের ছোট একটি শিশু সন্তান আছে তার কী হবে। এসময় আর্থিকভাবে সরকারের কাছে সহযোগীতাও কামনা করেন।

রুবেলুর রহমান/এফএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।