অবশেষে মফিজ উদ্দিনের বাঁশের সাঁকো ভেঙে সেতু তৈরি


প্রকাশিত: ০১:৫৬ পিএম, ২৬ এপ্রিল ২০১৬

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের গোফরেখী গ্রামের ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টিকারী মফিজ পাগলার তৈরি করা বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হাসান।

এদিকে দীর্ঘ অপেক্ষার পর সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় আশেপাশের ১০টি গ্রামের সাধারণ মানুষসহ মফিজ পাগলাও বেশ উল্লাসিত। অথচ এই সেতু না থাকার কারণে উপজেলার গোফরেখীসহ আশেপাশের ১০টি গ্রাম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসীরা এই স্থানটিতে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এ কারণে এ গ্রামের দিনমজুর মফিজ উদ্দিন ওরফে মফিজ পাগলা নিজেই গত বর্ষা মৌসুমের শেষে এই স্থানটিতে একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। কিন্তু দিন-মজুর মফিজের পক্ষে এতো টাকা যোগান দেয়া ছিল অসম্ভব। তবুও তিনি পিছু না হটে নিজেই তার হালের গরু বিক্রি আর স্থানীয় এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ৬০ হাজার টাকা জমিয়ে স্থানটিতে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নেন। স্থানীয় গ্রামবাসী শারীরিক শ্রম দিয়ে তার এই উদ্যোগের সফল করতে পাশে এসে দাঁড়ান।

গত ৫ ডিসেম্বর এই সাঁকোটি নির্মাণ কাজ শেষ হয়। নির্মান শেষে কোন সরকারী কর্মকর্তা বা সমাজ সেবক দিয়ে সেতুটি উদ্বোধন করা হয়নি।

Sirajganj-Bridge

উদ্বোধন করা হয় স্থানীয় দুইজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভিখারী নারীকে দিয়ে। এই দুই নারী ফিতা কেটে সাঁকোটির উদ্বোধন করেন। এরপর গত ৫ মাস গ্রামবাসী মফিজ উদ্দীনের নির্মিত সাঁকো দিয়েই যাতায়াত করেছেন। বিষয়টি এলাকা জুড়ে ব্যাপক প্রচার পাওয়ায় দৃষ্টি কাড়ে উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের। অবশেষে মঙ্গলবার এই স্থানটিতেই স্থায়ী সেতু নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়।

বেলকুচি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মইন উদ্দিন জানান, ৪০ ফুট দীর্ঘ ও ১৪ ফুট প্রশস্থ এই সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২ লাখ টাকা।

সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মফিজ উদ্দিন। এসময় তিনি জানান, আমার মনের আনন্দ প্রকাশের ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। দুই মাস পরেই আশেপাশের ১০টি গ্রামের মানুষ গাড়ি চালিয়ে আর দৌঁড়ে হেঁটে নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারবে তা আমরা ভাবতেই পারিনি। বছর বছর আর আমার মতো কাউকে হালের বলদ বিক্রি করে সেতু নির্মাণ করতে হবে না।

বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হাসান জানান, গোফরেখী গ্রামের এই স্থানটিতে একটি সেতুর এতো বেশি প্রয়োজন তা প্রশাসনের ধারণ ছিলো না। সমাজসেবক মফিজ উদ্দিনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তার এই উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়।

বাদল ভৌমিক/এআরএ/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।