পতনের মধ্যেই শেয়ারবাজার, কমেছে লেনদেন
সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার (৫ মে) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এতে কমেছে মূল্যসূচক। একই সঙ্গে ডিএসইত কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। লেনদেনের প্রথম এক ঘণ্টা সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকে।
কিন্তু প্রথম ঘণ্টার লেনদেন শেষ হতেই বদলে যেতে থাকে বাজারের চিত্র। দাম বাড়ার তালিকা থেকে একের পর এক প্রতিষ্ঠান দাম কমার তালিকায় নাম লেখাতে থাকে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে এই ধারা। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১০৮ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২১৬টির। এছাড়া ৬৭ প্রতিষ্ঠানের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৪৭টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১১৪টির দাম কমেছে এবং ৩৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩৭ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩২টির এবং ৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৪টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৯টির এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৫টির দাম বেড়েছে, ৮টির দাম কমেছে এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
আরও পড়ুন
আইন ভেঙে বিনিয়োগ করায় ভ্যানগার্ডকে জরিমানা, টাকা ফেরতের নির্দেশ
বিদ্যুৎ খাতে ৫০ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করবে এডিবি, সুবিধা পাবে বাংলাদেশ
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৪৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৮ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক এক পয়েন্ট কমে এক হাজার ৫৮ পয়েন্টে নেমে গেছে।
মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭৬৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৮৩২ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৬৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে মুন্নু সিরামিকের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩২ কোটি ৭২ লাখ টাকার। ২১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মালেক স্পিনিং।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- টেকনো ড্রাগস, জিকিউ বলপেন, লাভোলো আইসক্রিম, সিটি ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মা, উত্তরা ব্যাংক এবং মীর আখতার হোসেন লিমিটেড।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৪ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৯টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১০৪টির এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ৭২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
এমএএস/কেএসআর