`জিএসপি ফিরে পেতে আরো উন্নতি প্রয়োজন`


প্রকাশিত: ১০:০৫ এএম, ১৭ জানুয়ারি ২০১৫

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা (জিএসপি) ফিরে পেতে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করাসহ কিছু বিষয়ে আরো উন্নতি করতে হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন বাণিজ্য বিষয়ক সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (ইউএসটিআর)। শুক্রবার ইউএসটিআর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।

গত এক বছরে বাংলাদেশে পোশাক কারখানার নিরাপত্তা প্রশ্নে বেশ উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তবে জিএসপি ফিরে পেতে হলে আরো উন্নতি প্রয়োজন।

বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি মাইকেল ফ্রোম্যান বলেন, ২০১২ ও ২০১৩ সালে কয়েকটি পোশাক কারখানায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে যতো দ্রুত সম্ভব অবশিষ্ট কারখানাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে পরিদর্শন কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পোশাক খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশ সরকার, ব্যক্তি খাতের প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার আরো অনেক কিছুই করার রয়েছে।

কারখানার নিরাপত্তার পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা, কর্মক্ষেত্রে তাদের হয়রানি রোধ এবং শ্রম অধিকার নিয়ে কর্মরতদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে প্রচেষ্টা আরো জোরদার করার জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে জিএসপি ফিরে পেতে ১৬টি শর্ত সংবলিত যে অ্যাকশন প্ল্যান বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছে তার বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে সম্প্রতি প্রতিবেদন দিয়েছে ইউএসটিআর নেতৃত্বাধীন একটি সংস্থা।

ওই প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে, বিশেষ করে অগ্নিকাণ্ড ও ভবনের নিরাপত্তা বিষয়ে। এছাড়া বাংলাদেশ সরকারের তত্ত্বাবধানে গত বছর পোশাক খাতের দুই হাজারেরও বেশি কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই পরিদর্শনের ওপর ভিত্তি করে নিরাপত্তাজনিত কারণে ৩১টি কারখানা পুরোপুরি এবং ১৭টি কারখানা আংশিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শতাধিক কারখানার নিরাপত্তামান বাড়াতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, পর্যবেক্ষণে আরো উঠে এসেছে যে, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আরো উন্নতি প্রয়োজন। বিশেষ কারখানার শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত না করা, কর্মক্ষেত্রে তাদের হয়রানি শিকার হওয়া এবং শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের ওপর হামলা-সহিংসতার খবরে যুক্তরাষ্ট্র সরকার উদ্বিগ্ন।

এছাড়া অ্যাকশন প্ল্যানের অন্যতম শর্ত  শ্রম আইনের পুনর্গঠন প্রশ্নে সামান্য উন্নতি হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের এপ্রিলে সাভারে রানা প্লাজা ধসে ১২শ`র বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে, যাদের বেশির ভাগই পোশাককর্মী।

এ ঘটনার পর বাংলাদেশে কারখানায় কর্মপরিবেশ এবং শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে দুর্বলতার ইস্যুকে কেন্দ্র করে ২০১৩ সালে জুনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের জিএসপি স্থগিত করে সেদেশে সরকার। এরপর জিএসপি ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে ইউএসটিআর ১৬টি শর্ত সংবলিত `অ্যাকশন প্ল্যান` দেয় বাংলাদেশকে।

আরু

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।