নানা ছাড়েও ক্রেতা সঙ্কট ঈদ বাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:২৫ পিএম, ০৮ মে ২০২১ | আপডেট: ০৫:২৯ পিএম, ০৮ মে ২০২১

ঈদ বাজারে নানা অফার দিয়েও তৈরি পোশাকের দোকানগুলোতে মিলছে না ক্রেতা। আশানুরূপ ক্রেতা না হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন দোকান মালিকরা। করোনা সংক্রামণের ভয়ে মার্কেটে না এসে ঘরে বসেই অনেকে অনলাইনে কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন।

শনিবার (৮ মে) রাজধানীর মিরপুরে বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়।

মিরপুর ২ নম্বরে বিভিন্ন ব্যান্ডের তৈরি পোশাকের শো রুমগুলোতে ঈদের দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যেত। অথচ বর্তমানে এসব দোকানে ২০ থেকে ৭০ শতাংশ ছাড়ের অফার দিলেও পর্যাপ্ত ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকে আবার ক্রেতা টানতে একটা কিনলে একটা ফ্রি দিতেও দেখা গেছে।

এ এলাকায় আঙ্গিনা মেগা মলের ম্যানেজার জুবায়ের আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, করোনার কারণে প্রতিবারের মতো ঈদ কালেকশন করে দোকান সাজিয়ে তোলা হলেও তেমন বিক্রি হচ্ছে না। প্রতিটি পোশাকে ২০ শতাংশ ছাড় দিলেও বিক্রি করতে পারছেন না।

jagonews24

তিনি বলেন, গতকাল শুক্রবার কিছুটা আশানুরূপ বিক্রি হলেও শনিবার ক্রেতা কমে গেছে। এবার তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও মনে করেন এ দোকানি।

সুমাইয়া নামে এক ক্রেতা জানান, পরিবারের সকলের জন্য অনলাইন থেকে কেনাকাটা সেরে ফেলেছেন। নিজের জন্যও অনলাইন থেকে অনেক কিছু কিনেছেন। একটি কাজে বাসার বাইরে বের হওয়ায় এখানে এসে একটি শাড়ি পছন্দ হওয়ায় তা কিনেছেন বলে জানান।

অঞ্জন শাড়ির দোকানে দেখা যায়, ১০-১২ জন ক্রেতা ঘুরে ঘুরে ড্রেস দেখছেন। কাউন্টারে মাত্র একজন দাঁড়িয়ে দাম পরিশোধ করছিলেন।

অঞ্জনসের বিক্রেতা রাব্বি হাসান জাগো নিউজকে বলেন, দোকান খুলে দিনের অধিকাংশ সময় ক্রেতার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। প্রতি বছর এ সময়ে যে পরিমাণে পোশাক বিক্রি করা হয় তার ২০ শতাংশ বিক্রি হচ্ছে না। এ জন্য দোকানে কর্মচারী কমানো হয়েছে। প্রত্যাশিত বিক্রি না হলেও ঈদের বেতন-বোনাস পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে যেতে পারে বলে জানান।

এদিকে মিরপুর ১ নম্বর, মিরপুর নিউ মার্কেট, বাগদাদ, মুক্তিযোদ্ধা, কো-অপারেটিভসহ এলাকার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে।

নিউ মার্কেটে রঙ্গজয়ী রেডিমেড দোকানের ম্যানেজার বুলবুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ঈদে যা বিক্রি হচ্ছে তা দিয়ে স্টাফদের বেতন হওয়া কঠিন হয়ে যাবে। দীর্ঘ দিন ধরে কোম্পানি কিছুটা কম হলেও নিয়মিত বেতন দিয়ে আসছেন। এবার ঈদের বিক্রিতে তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। প্রায় প্রতিটি পণ্যে ছাড় দিয়ে বিক্রি করা হলেও তেমন বিক্রি হচ্ছে না।

jagonews24

এই দোকানে আসা এক দম্পতি জানান, করোনার মধ্যে তেমন বেশি কিছু কেনার ইচ্ছা নেই। ছোট মেয়েটার জন্য ঈদের কেনাকাটা করতে মার্কেটে এসেছেন বলে জানান।

তবে ফুটপাতের দোকানগুলোতে মানুষের উপস্থিতি ছিল খানিকটা বেশি। ৩শ’-৫শ’ টাকায় বিক্রি হওয়া পাঞ্জাবির দোকানে ছিল নিম্ন আয়ের মানুষের নজর।

বিক্রেতারাও তাই জোরেশোরে হাঁক দিচ্ছিলেন ‘বাইচ্ছা লন, দেইখা লন ৫শ’ টাকা।’ তবে ক্রেতার উপস্থিতি এখানেও কমেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

অনলাইনে এখন অনেকে কেনাকাটা করেন মন্তব্য করে মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের নিলয় ফ্যাশনের মালিক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘জ্যাম-গরম ঠেলে মার্কেটে আসা লাগে না। তাই অনেক কেনাকাটা করেন অনলাইনে। ঈদ বাজারের চাপ বাড়ে ১৫ রোজার পর থেকে। এবার তেমন চাপ বাড়েনি। আগের বছরের তুলনায় এবার ক্রেতা কম এসেছে।’

এমএইচএম/জেডএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]