দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতিতে সরকারি কলেজের শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৫৬ এএম, ২৭ নভেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০৫:৫৮ এএম, ২৭ নভেম্বর ২০১৭

জাতীয়করণ হওয়া এবং হতে যাওয়া কলেজশিক্ষকদের বিসিএস ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত না করার দাবিতে সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু করেছেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নেতা-কর্মীরা।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার দেশের সাড়ে ৩০০ সরকারি কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষা ক্যাডারদের অধীনস্থ সব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা সকাল থেকে এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি কলেজ ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষকদের টানা দ্বিতীয় দিনের পূর্ণদিবস পালনে অচল হয়ে পড়েছে কলেজগুলো। বন্ধ রয়েছে পাঠদান ও একাডেমিক কার্যক্রম।

শুধু তাই নয় আন্দোলনের কারণে চলমান অনার্স তৃতীয় বর্ষের দুই দিনের সকল পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। ক্যাম্পাসগুলোতে সুনসান অবস্থা।

বাংলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক নেছার উদ্দিন বলেন, বিসিএস পরীক্ষা না দিয়ে কোনোভাবে ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হওয়া সম্ভব নয়। কলেজ সরকারি হলেই তারা ক্যাডার হয়ে যাবে- এটি একটি হাস্যকর বিষয়। বেসরকারি কলেজগুলো জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের নন-ক্যাডার করে সকল সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হোক, তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। বিসিএস পরীক্ষায় কৃতকার্য না হয়ে ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হওয়া যাবে না।

এ কলেজের অপর শিক্ষক সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এর আলোকে সকল আত্মীকরণ শিক্ষকদের নন-ক্যাডার করতে হবে। কারও সঙ্গে আমাদের বৈরিতা নয়, কারও বিষয়ে আমাদের আপত্তি নয়। বিসিএস ছাড়া আমাদের ক্যাডারে যুক্ত হওয়া যাবে না। তাই ‘নো বিসিএস নো ক্যাডার’ বাস্তবায়নে প্রয়োজনে ক্লাস ছেড়ে অনশন পালনে বাধ্য হবো।

একইভাবে দেশের সাড়ে ৩০০ সরকারি কলেজের শিক্ষক, সকল শিক্ষা বোর্ড, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর, নায়েম, সরকারি টির্চাাস টেনিং কলেজসহ বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রিত সকল প্রতিষ্ঠানের বিবিএস শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা জাতীয়করণ শিক্ষকদের নন-ক্যাডার করে নিয়োগ বিধিমালা জারির দাবিতে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো অঘোষিতভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম।

দু’দিনের কর্মসূচি শেষ করে মঙ্গলবার কর্মস্থলে ফেরার কথা রয়েছে শিক্ষকদের। দাবি আদায়ে ৬, ৭ ও ৮ জানুয়ারি আবারও টানা তিন দিনের কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা রয়েছে আন্দোলনকারীদের।

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সভাপতি আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার বলেন, বিবিএস শিক্ষা সমিতির শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। আমাদের দাবি বাস্তবায়ন করা হলে কলেজ শিক্ষার মান বাড়বে। তাই কোনোভাবেই জাতীয়করণ কলেজ শিক্ষকদের আমাদের ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। এ কারণে তারা বিভিন্নভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেও জানান।

এমএইচএম/এনএফ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :