গানে ব্যর্থ হলে যে চাকরিতে যোগ দিতেন আসিফ আকবর

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:১৮ এএম, ২৫ মার্চ ২০২৬
আসিফ আকবর। ছবি: সংগৃহীত

বাংলা গানের শ্রোতাদের জন্য আজ একটি বিশেষ দিন। কারণ আজ (২৫ মার্চ) জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের জন্মদিন। তিনি গানপ্রিয় কোটি মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে গেছেন। তবে ‘বাংলা গানের যুবরাজ’ খ্যাত আসিফ আকবরের জীবনের গল্প মোটেও সহজ ছিল না; বরং এটি সংগ্রাম, অধ্যবসায় এবং নিজের স্বপ্নের প্রতি অদম্য মনোভাবের এক অনন্য উদাহরণ।

সংগীতকে বলা হয় ‘গুরুমুখী বিদ্যা’-অর্থাৎ, একজন ওস্তাদের কাছে তালিম নেওয়া জরুরি। তবে আসিফের গল্পটি সম্পূর্ণ বিপরীত। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, কোনো শাস্ত্রীয় তালিম নেই। তার গান শেখার কৌশল ছিল সম্পূর্ণ স্বনির্ভর। প্রিয় শিল্পীদের গান শুনে, নিজস্ব চর্চা আর অধ্যবসায়ের জোরেই তৈরি করেছেন নিজেকে। সেই প্রতিভা তাকে এনে দিয়েছে কোটি ভক্তের হৃদয়ে জায়গা, এবং খেতাব দিয়েছে ‘বাংলা গানের যুবরাজ’।

জীবনের শুরুটা সহজ ছিল না। ১৯৭২ সালে কুমিল্লার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আসিফ। ১৯৯৭ সালের ১৫ অক্টোবর স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় পা রাখেন তিনি। লক্ষ্য ছিল-সাউন্ডের ব্যবসা শুরু করা এবং সংগীত জগতে নিজের পরিচয় তৈরি করা। প্রথম দিকে ডেমো ভয়েস দেওয়া, ছোটখাটো কাজ-এসব দিয়েই চলতে হয়েছিল তাকে।

গানে ব্যর্থ হলে যে চাকরিতে যোগ দিতেন আসিফ আকবর

আসিফ এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “আমি শওক আলী ইমন ভাইয়ের সহকারী হিসেবে কাজ করেছি প্রায় এক বছর। তিনি সিনেমার গানে আমাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এরপর ইথুন বাবু অডিও অ্যালবামের প্রস্তাব দেন। যদি সেই অ্যালবাম সাড়া না ফেলত, আমি চা বাগানে চাকরি করতাম। সব সময় বিকল্প রাখি।” এই এক কথায় প্রকাশ পায় তার সংগ্রাম, পরিকল্পনা ও বাস্তবতার সঙ্গে মোকাবেলার মনোভাব।

২০০১ সালে প্রকাশিত ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ অ্যালবামটি রাতারাতি তাকে জনপ্রিয়তার শিখরে নিয়ে যায়। অ্যালবামটি বিক্রি হয় ৬০ লাখেরও বেশি কপি-যা দেশের অডিও ইন্ডাস্ট্রিতে এক অনন্য রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত। এক অ্যালবামেই বদলে যায় তার জীবন। তবে এই সাফল্যের পেছনে ছিল কঠিন সংগ্রামের দিন। পকেটে মাত্র ১০ টাকা, অসুস্থ সন্তান, সংসারের চাপ-সব মিলিয়ে জীবন ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা। সেই সময় পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ইথুন বাবু। আসিফ নিজেই বলেন, “অসহায় অবস্থায় মানুষ খড়কুটো খোঁজে। সেই সময় আমি বাবু ভাইকে পেয়েছিলাম।”

আজকের দিনে আসিফ শুধুই গায়ক নন, তিনি একটি প্রজন্মের আবেগের সঙ্গে মিশে গেছেন। তার গান ক্যাসেট যুগ থেকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম- সবখানেই সমান জনপ্রিয়। ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমের মাধ্যমে তার গান মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ পাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের শিল্পীরাও তার গান কাভার করে প্রশংসা অর্জন করছেন।

গানে ব্যর্থ হলে যে চাকরিতে যোগ দিতেন আসিফ আকবর

সংগীতের বাইরে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে সরব থাকাটাও তার ব্যক্তিত্বের অংশ। দেশের নানা সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে নিয়মিত মতামত তুলে ধরেন সামাজিক মাধ্যমে।

আরও পড়ুন:
ঝড়ের মতো এসেছিলেন আসিফ
বিতর্কের মাঝেই প্রেমের খবর, ইশা রিখির সঙ্গে বাদশার নতুন অধ্যায়

জন্মদিনে ভক্তরা তার প্রতি ভালোবাসা জানাচ্ছেন। কেউ স্মরণ করছেন ক্যাসেট যুগের দিনগুলো, কেউ লিখছেন শৈশবের স্মৃতি। তার গান তাদের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।

যে মানুষটি একসময় ভেবেছিলেন, গানের জগতে প্রতিষ্ঠা না পেলে চা বাগানে চাকরি করবেন, তিনিই আজ কোটি মানুষের হৃদয়ের ‘যুবরাজ’। গান না শিখে, শুধু নিজের অধ্যবসায়, পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে জয় করেছেন বাংলা সংগীতের এক চিরন্তন স্থান।

এমএমএফ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।