বিদায় রানা হবে আমার শেষ ছবি


প্রকাশিত: ১২:০৫ পিএম, ২৬ অক্টোবর ২০১৫

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পে অসামান্য কৃতিত্ব রাখার জন্য এ বছর অভিনেতা-পরিচালক ও প্রযোজক মাসুদ পারভেজ ওরফে সোহেল রানাকে ‘ফলজুল হক স্মৃতি পুরস্কার ২০২৫’ প্রদান করা হয়েছে। প্রয়াত ফজলুল হক ছিলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার পথিকৃৎ ও প্রথম চলচ্চিত্র বিষয়ক পত্রিকা ‘সিনেমা’র সম্পাদক।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেল জাঁকজমকপূর্ণ পরিসরে সোহেল রানাকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এ সময় অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সব্যসাচি লেখক সৈয়দ শামসুল হক, সাংকৃতিক ব্যক্তিত্ব আফজাল হোসেন, চ্যানেল আই ও ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, কথা সাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব মুশফিকুর রহমান গুলজার, পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান, চিত্রনায়ক ওমর সানি, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচীসহ আরো অনেক চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাংবাদিকবর্গ।

পুরস্কার পেয়ে উচ্ছ্বসিত সোহেল রানা তাকে এই সম্মানের যোগ্য করায় আয়োজকদের কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, ‘প্রয়াত ফজলুল হককে বলা হয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার জনক। এ পুরস্কারে ভূষিত করে আমাকে আবার নতুনভাবে জাগিয়ে তোলা হলো। আমি যখন প্রথম চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করি তখন ফজলুল হক আমাকে নানাভাবে অনুপ্রাণিত করতেন। নানারকম প্রতিকূলতার সময় তাকে কাছে পেয়েছি। আজ তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে না থাকলেও আমরা সবাই তাঁর আদর্শে উজ্জীবিত।’

সত্তর দশকের এই ড্যাশিং হিরো আরো বলেন, ‘আমি জীবনে অনেক চলচ্চিত্র তৈরি করেছি। তবে ইচ্ছা আছে আরো দুটি ছবি নির্মাণ করবো। একটি জাতির জনক শেখ মুজিবের মৃত্যুর রাতে কাহিনী নিয়ে এবং অন্যটি হচ্ছে নিজেকে নিয়ে।’

দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়ী এ অভিনেতা আরো বলেন, ‘মাসুদ রানা’ ছবির মাধ্যমে আমার চলচ্চিত্র পরিচালনা শুরু আর চলচ্চিত্র পরিচালনা শেষ করতে চাই ‘বিদায় রানা’ নামক একটি ছবি পরিচালনা করে। এ ছবিটি হবে আমার জীবনের প্রতিচ্ছবি। এখানে থাকবে আমার সব বলা না বলা গল্প। আপানারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’

প্রসঙ্গত, কিংবদন্তী অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক মাসুদ পারভেজ ওরফে সোহেল রানা প্রযোজক হিসেবে ১৯৭২ সালে ‘ওরা ১১ জন’ চলচ্চিত্র প্রযোজনার মধ্য দিয়ে প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর নায়ক ও পরিচালক হিসেবে যুগপৎ প্রথম আবির্ভাব ১৯৭৪ সালে ‘মাসুদ রানা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এরপর নায়ক হিসেবে অভিনয় করেছেন অসংখ্য ব্যবসা সফল ছবিতে।

তবে অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি নির্মাণ করেছেন অসংখ্য বিখ্যাত কিছু চলচ্চিত্র। তার পরিচালিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে গাদ্দার, মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা, পরাধীন, দাগী, জবাব, জীবন নৌকা, শিকল, অত্যাচার, জুলি, জুলুম, হীরাপাশা, দুই প্রেমিক, সংঘাত, হাঙর নদী গ্রেনেড, জীবন সীমান্তে, জীবন এক সংঘর্ষ, স্ত্রী, লাট সাহেবসহ আরো অনেক।

উল্লেখ্য, সোহেল রানার সাথে এবারের ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছেন বিনোদন সাংবাদিক শহীদুল হক খান।

এলএ/এমএস

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :