বন্ধু দিবসের ১০০ বছর

ফিচার ডেস্ক
ফিচার ডেস্ক ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৪৩ পিএম, ০৭ আগস্ট ২০২২

‘বন্ধু’এই ছোট্ট শব্দটির গভীরতা অনেক। আজ ৭ আগস্ট বিশ্বের অনেক দেশেই পালিত হচ্ছে ‘ফ্রেন্ডশিপ ডে’ বা বন্ধু দিবস। বন্ধুত্বের নেই কোনো দিনক্ষণ বা সীমা-পরিসীমা। বন্ধু মানেই মন খুলে কথা বলা, বিপদে-আপদে সব সময় ভরসা করা যায় এমন একজন। সবার জীবনেই এমন একজন বন্ধু থাকে। যার সঙ্গে আত্মার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বন্ধু ছাড়া জীবন কাটানো খুবই কষ্টকর।

প্রতিবছর আগস্টের প্রথম রবিবার পালিত হয় আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস পালিত হয়। এদিন বন্ধুরা একে অপরকে উপহার দেয়। বিভিন্নভাবে উইশ করে থাকেন। হাতে ফ্রেন্ডশিপ ব্রেসলেট পরিয়ে দেন। এ ছাড়াও সবাই মিলে আড্ডা দিয়েও উদযাপন করা হয় দিনটি। তবে প্রতিবছর যে বন্ধ দিবস পালন করা হয় সেটি দুই বন্ধুর সম্পর্ক অটুট রাখতে শুরু হয়নি।

ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যেই এর প্রচলন শুরু হয়েছিল। ১৯৩০ সালে এই কাজটি করেছিলেন বিশ্বখ্যাত উপহারসামগ্রী ও কার্ড বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান হলমার্কের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জয়েস হল। তিনি প্রতিবছর ২ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে বন্ধুত্ব দিবস উদ্যাপনের বিষয়টি সামনে আনেন। এদিন কার্ড আদান-প্রদানের মাধ্যমে বন্ধু দিবস পালন করার চল শুরু হয়। অবশ্য তার সে প্রচেষ্টা অতটা সফল হয়নি।

বন্ধু দিবসের ১০০ বছর

১৯২২ সালের পরে এটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। মূলত ১৯২২ সালেই এটি পরিচিতি পেয়েছিল মার্কিন মুলুকের জনগণের কাছে। ১৯৩৫ সালের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বন্ধু দিবসকে আগস্টের প্রথম রবিবারে পরিণত করে। এরপর এটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯৪০ সালের দিকে মানুষ বুঝতে পারে, এটা কোনো মহৎ উদ্দেশ্য নয়, বরং হলমার্কের কার্ড ব্যবসা বাড়ানোর ফন্দি। এরপর থেকে বন্ধু দিবস উদ্যাপন একরকম বন্ধই হয়ে যায়। ১৯৩০ সালে উদযাপন শুরু করলেও এর ধারণা ১৯১০ সালেই দিয়েছিল জয়েস হল।

বন্ধু দিবসের ১০০ বছর

তবে এটি এতদিন শুধু জাতীয় বন্ধু দিবস হিসেবেই পালিত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯৫৮ সালের ২০ জুলাই বিশ্বব্যাপী বন্ধু দিবস পালনের প্রস্তাব দেন জয়েস হল। এরপরই বিশ্বব্যাপী ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে বন্ধুত্ব, ঐক্য ও ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে গঠন করা হয় ‘বন্ধুত্ব ক্রুসেড’। পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান ৩০ জুলাইকে বন্ধু দিবস ঘোষণা করেন। জাতিসংঘ জুলাইয়ের ৩০ তারিখ বন্ধু দিবস পালন করলেও বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আগস্টের প্রথম রোববার বন্ধু দিবস হিসেবে পালিত হয়।

সেবছরই অর্থাৎ ১৯৫৮ সালের ৩০ জুলাই প্রথম ফ্রেন্ডশিপ ডে উদযাপিত হয় সারাবিশ্বে। এরপর ‘জেনারেল অ্যাসেম্বলি অফ দ্য ইউনাইটেড নেশন’ ২০১১ সালের ৩০ জুলাই দিনটি আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। বন্ধু দিবসের তাৎপর্য হলো- ব্যক্তি, রাষ্ট্র, সংস্কৃতির মধ্যে বন্ধুত্ব শান্তিকে সুনিশ্চিত করবে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন জাতির মধ্যে সেতুবন্ধন ঘটাবে। এই উদ্দেশে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবসের সূচনা করা হয়।

বন্ধু দিবসের ১০০ বছর

কয়েক দশক ধরে এ দিনে বন্ধুরা একে অপরকে ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ড, কার্ড, উপহার দিয়ে পালন করে থাকেন বিশ্ববাসী।রেস্তোরাঁ থেকে শপিং মল সেজে ওঠে ভিন্ন ভাবে। একাধিক দোকানে দেওয়া হয় বিশেষ ছাড়।

সোশ্যাল মিডিয়ায়ও ফ্রেন্ডশিপ ডে ভীষণভাবে উদযাপিত হয়। সোশ্যাল সাইটগুলিতে বন্ধুরা একে অপরকে শুভেচ্ছা জানায় বা একে অপরের সম্পর্কে আন্তরিক পোস্ট বা গল্প শেয়ার করে। অনেকেই পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে মেতে ওঠেন আড্ডায়। স্মৃতিচারণে কাটে এক সুন্দর মুহূর্ত। যা পরের বছরের বন্ধু দিবসকে আমন্ত্রণ জানায়।

সূত্র: এনডিটিভি, ডেইস অব দ্য ইয়ার

কেএসকে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।