মার্কিন চাপে সম্পর্ক বদল

ইরানের তেলবাহী ৩ ট্যাংকার জব্দ করলো ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:১৮ পিএম, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইরানের তেলবাহী ৩ ট্যাংকার জব্দ করলো ভারত/ ছবি: ভারতীয় কোস্টগার্ড

ইরানের তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগে আরব সাগর থেকে তিনটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে ভারত। ভারতীয় কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক তেল পাচারচক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযানের অংশ হিসেবে মুম্বাই উপকূল থেকে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজগুলো জব্দ করা হয়।

গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওই তিনটি জাহাজ শনাক্ত করা হয় বলে এক বিবৃতিতে জানায় ভারতীয় কোস্টগার্ড। সংস্থাটির দাবি, সংঘাতপীড়িত অঞ্চল থেকে স্বল্পমূল্যে তেল সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিক জলসীমায় মাঝসমুদ্রে স্থানান্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন মোটর ট্যাংকারে সরবরাহ করছিল এই চক্র। এর মাধ্যমে উপকূলবর্তী রাষ্ট্রগুলোর প্রাপ্য শুল্ক এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

ভারতের কোস্টগার্ড জানায়, দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি, ইলেকট্রনিক ডেটা যাচাই এবং নাবিকদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ওই নেটওয়ার্কের কার্যপ্রণালি ও একটি বৈশ্বিক পরিচালনাকারী চক্রের সঙ্গে তাদের সংযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। জাহাজগুলোকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য মুম্বাই বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন>>
যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ইরানের চাবাহার বন্দরে অর্থায়ন বন্ধ করলো ভারত

ভারতীয় নাগরিকদের ভিসামুক্ত প্রবেশ বন্ধ করলো ইরান
ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থা ট্যাংকারট্র্যাকার্সের তথ্য অনুযায়ী, আটক হওয়া তিনটি ট্যাংকার হলো— ইরানের পতাকাবাহী ‘স্টেলার রুবি’, ‘চিলটার্ন’ এবং ‘অ্যাসফল্ট স্টার’। ইরানি সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালও একই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জ্বালানি বাণিজ্য পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এই তিনটি ট্যাংকারই ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব দপ্তরের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোলের (ওএফএসি) নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নথিতে বলা হয়, ইরানের তেল রপ্তানিতে আরোপিত বিধিনিষেধ এড়াতে ব্যবহৃত একটি ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ হিসেবে এসব ট্যাংকারকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ‘সম্পর্কের বদল’

এদিকে, ওমানে পরোক্ষ আলোচনা শেষ হওয়ার পরপরই শনিবার ইরানের তেল রপ্তানি ঠেকাতে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন। এতে তুরস্ক, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পতাকাবাহী অন্তত ১৪টি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিও আলোচনায় উঠে আসছে। গত শনিবার দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পর ওয়াশিংটন ভারতের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয়। নয়াদিল্লি রাশিয়া থেকে তেল আর কিনবে না এবং ভারতে মার্কিন পণ্য রপ্তানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য কেনা বাড়াবে, এমন আশ্বাসের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

এর আগে জানুয়ারিতে ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

অন্যদিকে, চলতি মাসের শুরুতে ভারতের ঘোষিত ২০২৬ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্পে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। গত কয়েক বছর ধরে এই প্রকল্পে বার্ষিক ১০০ কোটি রুপি করে বরাদ্দ দিচ্ছিল নয়াদিল্লি। যুক্তরাষ্ট্রের চাপেই চাবাহার প্রকল্পে ভারত অর্থায়ন বন্ধ করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই, এনডিটিভি
কেএএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।