২০২৫ সালে ৮ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত বা নিখোঁজ: জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:৩১ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত। ছবি: এএফপি (ফাইল)

বিশ্বজুড়ে অভিবাসন পথে ২০২৫ সালে অন্তত ৭ হাজার ৬৬৭ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যেখানে প্রায় ৯ হাজার ২০০ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছিল, সেখানে ২০২৫ সালে সংখ্যাটি কিছুটা কমেছে। তবুও সংস্থাটি বলছে, এটি বৈশ্বিক সংকটেরই প্রতিফলন।

আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপি বলেন, অভিবাসন পথে ধারাবাহিক প্রাণহানি একটি বৈশ্বিক ব্যর্থতা, যা আমরা স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিতে পারি না। তিনি নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন পথ তৈরির আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই মৃত্যুগুলো অনিবার্য নয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফ্রিকা থেকে ইউরোপে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগর অতিক্রম করা এখনো সবচেয়ে প্রাণঘাতী রুটগুলোর একটি। ২০২৫ সালে এই সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অন্তত ২ হাজার ১০৮ জন নিখোঁজ হয়েছেন।

এছাড়া স্পেনের ক্যানারি দ্বীপে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে আরও ১ হাজার ৪৭ জন মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেই ভূমধ্যসাগরে অভূতপূর্ব সংখ্যক অভিবাসীর মৃত্যু ঘটেছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৬০৬ জনের মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে, যদিও ইতালিতে আগমনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

গত দুই সপ্তাহে দক্ষিণ ইতালি ও লিবিয়ার উপকূলে ২৩ জনের মরদেহ ভেসে উঠেছে বলেও জানিয়েছে আইওএম।

সংস্থাটি বলছে, ২০২৫ সালে আমেরিকা অঞ্চলে তুলনামূলক কম মানুষ বিপজ্জনক পথে যাত্রা করায় মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত এবং কলম্বিয়া ও পানামার মধ্যবর্তী দারিয়েন জঙ্গল অতিক্রমের চেষ্টাকারীর সংখ্যা কমেছে।

২০১৪ সালে প্রতিবেদন শুরু হওয়ার পর ২০২৫ সালে আমেরিকা অঞ্চলে সবচেয়ে কম মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করেছে আইওএম। তবে বছরের চূড়ান্ত সংখ্যা পরে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসন পথ নিশ্চিত না করা গেলে এই মানবিক সংকট অব্যাহত থাকবে।

সূত্র: এএফপি

এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।