তেল রপ্তানির তুলনায় হরমুজ থেকে ‘দ্বিগুণ রাজস্ব’ পাবে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:২৬ পিএম, ১৪ মে ২০২৬
ফাইল ছবি

হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায়ের মাধ্যমে তেল রপ্তানির আয়ের চেয়ে ‘দ্বিগুণ রাজস্ব’ তথা অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে ইরান। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিটি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিশাল অর্থনৈতিক লাভ ছাড়াও তেহরানের কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। বুধবার (১৩ মে) ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া এসব তথ্য জানিয়েছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএসএনএর-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুখপাত্র আকরামিনিয়া জানান, বর্তমানে হরমুজ প্রণালির পশ্চিমাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর নৌবাহিনী এবং পূর্বাংশ তদারকি করছে ইরানি সেনাবাহিনীর নৌবাহিনী।

আকরামিনিয়ার ভাষ্য মতে, হরমুজ প্রণালির ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ দেশকে তেলের আয়ের দ্বিগুণ রাজস্ব এনে দেবে এবং একই সঙ্গে আমাদের পররাষ্ট্রনীতির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

তিনি আরও দাবি করেন, হরমুজে ইরানের শক্তিশালী নৌ উপস্থিতি উপসাগরীয় দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা ব্যাহত করবে। তার মতে, খুব শিগগির মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের অবস্থান পুরোপুরি দুর্বল হয়ে পড়বে।

এর আগে ইরান ঘোষণা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষে এবং তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সমর্থন দেওয়া দেশগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা হবে।

এদিকে ইরান-মার্কিন যুদ্ধবিরতির মধ্যেই মার্কিন প্রস্তাবের জবাবে ইরানের প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। তবে, ফের আলোচনা শুরুর জন্য ইরানের দেওয়া পাঁচটি শর্ত মেনে নিতে হবে ট্রাম্প প্রশাসনকে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ফের যুদ্ধে ফেরত যাবে কি না তাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন।

এর প্রতিবাদে টানা ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান। এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

ইরানের তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ৪০ দিনের যুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ৩ হাজার ৩৭৫ জন ইরানি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।

কেএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।