ভূমিকম্পে উচ্চতা কমেছে এভারেস্টের!
ভূমিকম্পে ভূ-প্রাকৃতিক কিছু পরিবর্তন আসে, এটাই স্বাভাবিক। গত ২৫ এপ্রিল নেপালের ভয়াবহ ভূমিকম্পেও সেই পরিবর্তন এসেছে। রাজধানী কাঠমান্ডুসহ তৎসংলগ্ন বিশাল একটি অংশ উপরে উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, ভূমিকম্পের ফলে বিশ্বের উচ্চতম শৃঙ্গটি অন্তত এক ইঞ্চি নিচু হয়ে গেছে।
ভূমিকম্পের পর ভূ-প্রাকৃতিক পরিবর্তন নিয়ে বৃহস্পতিবার তথ্য পাঠিয়েছে ইউরোপীয় রেডার স্যাটেলাইট সেনটিনেল-১ এ। নতুন তথ্য অনুসারে কাঠমান্ডুর ৫০ কিলোমিটার দূরে প্রায় ১২০ কিলোমিটার জায়গা অন্ততপক্ষে ১ মিটার উপরে উঠে এসেছে।
আমেরিকার গবেষণা সংস্থা ‘কমেটের’ গবেষক অধ্যাপক টিম রাইট জানিয়েছেন, আমাদের ইন্টারফেরোগ্রাম অনুযায়ী কাঠমান্ডুর উত্তর-পূর্ব দিকে ৩৪টি পরিবর্তন নজরে আসছে। যার অর্থ স্বাভাবিকের চেয়ে ভূপৃষ্ঠ অন্ততপক্ষে এক মিটার উপরে উঠে এসেছে৷
স্যাটেলাইটের পাঠানো তথ্যে এও দেখা যাচ্ছে, ৭.৯ মাত্রার ভূমিকম্প এবং কয়েক দফার আফটার শকের পর এখনো ভূমিকম্পের ঝুঁকিমুক্ত হয়নি নেপাল। তবে এই তথ্যটি আপাতপ্রাপ্ত তথ্য হওয়ায় গবেষকরা এখনো অপেক্ষায় রয়েছেন।
ধ্যাপক রাইট আরও জানান, এখন আমরা জানতে চাই ভূ-অভ্যন্তরের ঠিক কোন প্লেটটি নড়েছিল বা পিছলে গিয়েছিল। আর এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারব পরে আর কোথায় কোথায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে।
যদিও ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দিতে এখনো বিজ্ঞানীরা সক্ষম নন। তবে আশার কথা আগামী বছর সেনটিনেল-১ এ এর সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে সেনটিনেল-১ বি। তখন প্রতি ছয় দিনে একবার জানা যাবে সারা পৃথিবীর সব ভূ-প্রাকৃতিক পরিবর্তন।
ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির ৬টি প্রস্তাবিত স্যাটেলাইটের মধ্যে সেনটিনেল-১ ভূমি ও সমুদ্রের উপর সর্বদা রেডার পর্যবেক্ষণ করে চলেছে।
পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরার সময় এটি পুরানো ও নতুন ছবি তুলনা করে বলে দিতে পারে ভূমিতে ঠিক কি ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
বিএ/আরআই