১৪ বছর ছুটি নেননি প্রেমলাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:০৬ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০১৮

স্ত্রী কাতরাচ্ছিলেন জ্বরে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দিয়ে এসে বাজিয়েছেন ছুটির ঘণ্টা। ‘ছোট কাকু’র মৃত্যুর পর তাকে দাহ করেই শ্মশান থেকে চলে এসেছেন স্কুলে। গাছে পানি দিয়েছেন।

চাকরি শুরু করার পর এভাবেই কেটে গেছে ১৪ বছর। কোনদিনও ছুটি নেননি প্রেমলাল। ছুটির দিন রোববারও একবার ঘুরে আসেন স্কুল থেকে। প্রেমলাল হলেন- ভারতের শিলিগুড়ির বিধাননগর মুরলীগঞ্জ স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির স্থায়ী কর্মী।

প্রেমলালের ভাষায় স্কুলে না গেলে তার মনে হয় দিনটা শেষ হবে না।

২০০৪ সালের নভেম্বর কাজে যোগদানের পর একদিনও ছুটি নেননি প্রেমলাল। কিন্তু কেন ছুটি নেন না প্রেমলাল?

মাধ্যমিক পাসের পর এক সময় সংসার চালাতে ট্রাকে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজও করেছেন। পরে যোগ দেন স্কুলে। প্রেমলাল বলেন, ‘স্কুলে কাজ শুরু করার পরই মনটা বদলে গেল। স্কুলের ফুলবাগান, চেয়ারটেবিল, ছাত্র-ছাত্রীদের দেখলেই একটা অনুরপ্রেরণা পেতাম। নিজে স্কুলজীবনে ভাল ছাত্র ছিলাম না। আমি না গেলে কোনোভাবে স্কুল চালানোর ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়বে। তা চাই না।’

স্কুলে একদিন প্রেমলালের দাঁতে এত ব্যথা শুরু হয় যে স্কুলের ঘরেই শুয়ে পড়েছিলেন। প্রধান শিক্ষক তাকে দেখতে এলে অনুরোধ করেন- স্যার, আমি ছুটি চাই না। একটু ওষুধ আনার ব্যবস্থা করে দিন। তাহলেই সেরে যাবে।’

এক শিক্ষক ছুটে গিয়ে ওষুধ নিয়ে এসেছিলেন। সেদিনও ছুটি নেননি প্রেমলাল।

সূত্র: আনন্দবাজার।

এনএফ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :