সিএএর বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকৃতি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৩৬ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০২০

ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে দেশটির প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে নেতৃত্বাধীন বিচারপতির বেঞ্চ নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে ১৪০টিরও বেশি করা আবেদনের শুনানিতে অংশ নেন।

এ সময় সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা দেশটির ক্ষমতাসীন সরকারকে এই আইনের বৈধতার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে করা আবেদনের জবাব দিতে চার সপ্তাহের সময় বেঁধে দেন। আদালত বলেছেন, নাগরিকত্ব আইনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ১৪০টির বেশি আবদেনের শুনানির পর পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ অন্তর্বর্তীকালীন একটি আদেশ দেবেন।

তবে কেন্দ্রের শুনানি ছাড়া এই আইনের বিরুদ্ধে কোনোভাবেই স্থগিতাদেশ দেয়া হবে না বলে আদালত পরিষ্কারভাবে জানান। দেশটির প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে বলেছেন, এই আইনটি সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, প্রধান বিচারপতি বোবদে নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারকের বেঞ্চে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে করা আবেদনের শুনানি চলছে। বেশিরভাগ আবেদনে নতুন নাগরিকত্ব আইন প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

আবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, নতুন নাগরিকত্ব আইনের বৈধতা নেই এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী। আবেদনকারীরা বলেছেন, ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের সুযোগ দেয়ায় এই আইন সমান অধিকারের পরিপন্থী।

তবে কিছু আবেদনে নতুন আইনের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছে। দেশটিতে গত ১০ জানুয়ারি বহুল বিতর্কিত এই নাগরিকত্ব আইন কার্যকর হয়। এর আগে গত বছরের ১১ ডিসেম্বর ভারতের পার্লামেন্টে আইনটি পাস হয়ে যাওয়ার পর দেশটিতে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ শুরু হয়। এই বিক্ষোভে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ২৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এখনও দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে এই আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) প্রতিবাদে আগামী ২৯ জানুয়ারি ভারত বনধের ডাক দিয়েছে দিল্লির শাহীনবাগের বিক্ষোভকারীরা। প্রায় এক মাস ধরে সিএএ ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকার (এনআরসি) প্রতিবাদে শাহীনবাগে বিক্ষোভ চলছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পৃথিবীর কোনও শক্তিই তাদের নড়াতে পারবে না।

এসআইএস/জেআইএম