ভারতে লাখো কৃষকের বিক্ষোভের কারণ কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:০৬ পিএম, ০২ ডিসেম্বর ২০২০

বেশ কয়েকদিন ধরে লাখ লাখ কৃষক বিক্ষোভ করছেন ভারতে। রাস্তা অবরোধসহ দিল্লি অবরুদ্ধ করার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা। তাদের দাবি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই সাথে নির্দিষ্ট স্থানে বিক্ষোভের কথা বলেছেন তিনি। এরপরও থামেনি কৃষকদের বিক্ষোভ। ঠিক কী কারণে করোনা ভীতি উপেক্ষা করে কৃষকদের এই বিক্ষোভ? আল জাজিরা তাদের এক প্রতিবেদনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে কৃষকদের এই বিক্ষোভের কারণ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বরে ভারতের পার্লামেন্টে তিনটি কৃষি আইন পাস হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের থেকে কৃষকদের রক্ষা করার জন্যই এই আইন। তবে কৃষকদের ধারণা এই আইন পাসের কারণে উপকারের চেয়ে তারা বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন। এ কারণেই তাদের এই বিক্ষোভ।

কী আছে আইনে
প্রথমত আইনের মাধ্যমে সরকার নিয়ন্ত্রিত বাজার(মান্দিস) ও বেসরকারি ক্রেতার কাছে কৃষকদের জন্য সরাসরি পণ্য বিক্রি ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কৃষকরা বেসরকারি ক্রেতার কাছে যেতে পারছেন। একে বলা হচ্ছে 'কন্ট্রাক্ট ফার্মিং'। এছাড়া তারা চাইলে অন্য রাজ্যেও পণ্য বিক্রি করতে পারবেন।

এছাড়া নতুন আইনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা চাইলে পণ্য মজুদ করতে পারবেন। ফলে তাদের হাতে দাম বাড়ানোর চাবিকাঠিও তুলে দেয়া হয়েছে এর মাধ্যমে। বিশেষ করে করোনা মহামারীতে তারা এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। আগের আইনে এই ধরনের কাজকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হতো।

যেখানে কৃষকদের সমস্যা
নতুন আইন নিয়ে কৃষকরা কিছু মৌলিক জায়গায় আপত্তি তুলে আন্দোলন করছেন। তাদের অন্যতম অভিযোগ হলো- নতুন আইনে তাদের অনেক রক্ষাকবজ কেড়ে নিয়েছে সরকার। ভারতের ৮৬ শতাংশ ক্ষুদ্র কৃষক, যারা দুই হেক্টরেরও কম জমির মালিক। তাদের শঙ্কা, বড় বড় কোম্পানির সাথে পণ্য বিক্রির মতো দরতাম করার ক্ষমতা তাদের নেই।

পাঞ্জাবের কৃষক রাশপিন্দর সিং আল জাজিরাকে বলেন, সরকার আমাদের বড় বড় কোম্পানির করুণার পাত্র বানিয়েছে। বড় বড় কোম্পানির সাথে দেনদরবার করার কথা চিন্তা করাও যায় না।

কৃষকরা কি আদালতে যেতে পারবেন?
নতুন আইনের বিরুদ্ধে কৃষকরা আদালতে যেতে পারবেন কি-না সে বিষয়ে বলা হয়েছে, এ ধরনের বিষয় নিয়ে আদালতে যাওয়ার সুযোগ নেই। কৃষকরা গতানুগতিক সমঝোতা বোর্ড গঠনের দাবি করতে পারবেন। সাধারণত এ ধরনের বিষয় নিয়মিত আদালতে তোলা হয় না।

সরকার কী বলছে
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কৃষকদের ভয় নাপাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভবান হবে না। কৃষকদের এই আন্দোলনের জন্য বিরোধীপক্ষকে দায়ী করে মোদি বলেছেন, তারা কৃষকদের উস্কে দিচ্ছে। নতুন কৃষি আইন কৃষকদের কল্যাণের জন্য। আগামী দিনেই আপনারা এই আইনের সুফল দেখতে পাবেন।

এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, কৃষকরা যদি নির্ধারিত স্থানে বিক্ষোভ করেন তাহলে তাদের রাজধানীতে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে। এজন্য কৃষকরা তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, কৃষকরা আরও বলেছেন, তার মানে 'এখানেই শেষ নয়'।

ইএ/এনএফ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]