পূর্বধারণার চেয়ে দ্বিগুণ মৃত্যুর জন্য দায়ী জীবাশ্ম জ্বালানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৩৪ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

জীবাশ্ম জ্বালানি বাতাসে কার্বন পাম্পের চেয়ে বেশি কিছু করে। বায়ু দূষণের সকল উৎসের মতো এটিও গ্যাস ও ক্ষুদ্র কণা নির্গমন করে। পিএম২.৫ নামে পরিচিত এসব অতি ক্ষুদ্র কণা মানুষের ফুসফুসে জায়গা করে নিতে পারে এবং রক্ত প্রবাহে প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে অসুস্থতা তৈরিসহ এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি এবং যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) ও ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহ্যামের প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণাপত্র অনুযায়ী, জীবাশ্ম জ্বালানির কারণে অনেক বেশি সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ নামক জার্নালে প্রকাশিত তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৮ সালে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণের ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যায় ৮৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা ওই বছর বিশ্বের মোট মৃত্যুর প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ। এই মৃত্যু সংখ্যা আগে যা ভাবা হয়েছিল তার চেয়ে অনেক বেশি। ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের ইন্সটিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশনের (আইএইচএমই) ‘গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ (জিবিডি)’ নামের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৫ সালে বায়ু দূষণ সংক্রান্ত কারণে বিশ্বব্যাপী মৃত্যু হয়েছিল ৪২ লাখ মানুষের। জিবিডি গবেষণায় শুধু জীবাশ্ম জ্বালানিই নয়, বরং ধূলা, জৈব বস্তু, রান্নার জ্বালানি প্রভৃতিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

গবেষণার ফলাফলে এরকম অমিল হওয়ার পেছনে কিছু কারণ রয়েছে। আইএইচএমই’র পরিবেশগত ঝুঁকি নির্ণয় দলের প্রধান মাইকেল ব্রাউয়ের বলেন, জিবিডিতে অল্প সংখ্যক কিছু রোগকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক, ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী রোগ, ফুসফুসের ক্যান্সার, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ। মূলত যেসব রোগের সঙ্গে বায়ু দূষণের সরাসরি ও শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে সেগুলোই জিবিডির গবষেণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে (উদাহরণস্বরূপ আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়া রোগ এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি)। কিন্তু এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে মৃত্যুর সম্ভাব্য সকল কারণগুলোকে বিবেচনা করা হয়েছে।

জিবিডির গবেষণা মূলত উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপে পরিচালিত হয়েছে। এসব অঞ্চলের রোগের সঙ্গে বায়ু দূষণের সম্পর্ক গবেষণায় খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আফ্রিকা বা এশিয়ার ক্ষেত্রে এসব রোগ পুরোপুরি প্রযোজ্য হবে না, কারণ এই অঞ্চলে অন্যান্য রোগেও প্রচুর মানুষ মারা যান। ইউসিএল এর অধ্যাপক ও নতুন গবেষণার অন্যতম লেখক এলোইস মারাইস বলেন, তাদের গবেষণায় মৃত্যুর সংখ্যা এত বেশি আসার কারণ হল তারা পরিসংখ্যানে এশিয়া থেকে স্বাস্থ্য গবেষণা এবং বায়ু দূষণের ফলে স্বাস্থ্যগত প্রভাব সংক্রান্ত নতুন গবেষণা অন্তর্ভুক্ত করেছেন। গবেষণা পদ্ধতিতে এবং জিবিডির স্যাটেলাইট ডেটা অন্তর্ভুক্তকরণে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

নতুন গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্বে চীন ও ভারতে পিএম২.৫ এর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি এবং জীবাশ্ম জালানি সংক্রান্ত বায়ু দুষণের ফলে মৃত্যুও এ দেশ দুটিতে সবচেয়ে বেশি। এমনকি, এ সংক্রান্ত মৃত্যুর ৬০ শতাংশ যৌথভাবে শুধু চীন ও ভারতেই ঘটে। তবে আশার আলোও রয়েছে। গবেষণাপত্রে বলা হয়, ২০১২ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত জীবাশ্ম জালানি সংক্রান্ত দূষণের মৃত্যু ২১ থেকে ১৮ শতাংশ কমেছে। এটা সম্ভব হয়েছে বায়ু দুষণের বিষয়ে চীনের কিছু কঠোর পদক্ষেপের ফলে। উপরোক্ত সময়ের মধ্যে চীনে পিএম২.৫ এর নির্মগণ ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ কমেছে।

সূত্র : দ্য ইকোনমিস্ট

এমকে/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]