যশোর রোডের ৩০৫ গাছ কাটার অনুমতি দিলেন ভারতের সুপ্রিমকোর্ট
পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি
ঐতিহাসিক যশোর রোডের পশ্চিমবঙ্গ অংশের দুপাশ থেকে ৩০৫টি বহু পুরোনো শিরীষ গাছ কেটে ফেলার অনুমতি দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ শহরের এক নম্বর রেলগেটে যানজট কমাতে সড়ক সম্প্রসারণ ও উড়াল রেলসেতু নির্মানের উদ্দেশ্যে এ অনুমতি দেওয়া হলো।
বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) গাছ কেটে ফেলার অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি একই জায়গা বরাবর এক হাজার ৫০০টি গাছ লাগানোর শর্ত দেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশ কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি একই প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে কি না সেদিকেও নজর রাখা হবে বলে জানান আদালত।
আরও পড়ুন>> যশোর রোডের গাছ কাটার অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট
এর আগে ২০১৮ সালে বারাসাত থেকে পেট্রাপোল পর্যন্ত যশোর রোড সম্প্রসারণের জন্য চার হাজার ৩৬টি গাছ কেটে ফেলার পরিকল্পনা করেছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পূর্ত দপ্তর। তার প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে আন্দোলন হয়েছিল। সে আন্দোলনে স্থানীয় মানুষজন ছাড়াও যোগ দিয়েছিলেন রাজ্যের একাধিক কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা।
সেসময় গাছ কাটার ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটস (এপিডিআর) নামের একটি সংগঠন। তখন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি নিশিতা মাত্রের ডিভিশন বেঞ্চ গাছ কাটায় স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন।
পরবর্তী সময়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ উড়ালসেতু নির্মানের জন্য যশোর রোডের ৩৫৬টি গাছ কাটার পক্ষে রায় দেন। তবে একটি গাছ কাটার আগে পাঁচটি করে গাছ লাগানোর শর্ত দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন>> দুর্ঘটনার কবলে জুন মালিয়ার গাড়ি
উত্তর ২৪ পরগনার মানুষ কলকাতাসহ পুরো ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় যশোর রোড ব্যবহার করে থাকেন। দীর্ঘদিন ধরেই সড়কটি সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছিল ভারত সরকার।
কিন্তু সড়কের দুপাশ থেকে গাছ কেটে ফেলায় বাধা সৃষ্টি হওয়ায় সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তাবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে এখন আদালতের আদেশের ফলে এ কাজে আর কোনো বাধা থাকলো না।
যশোর রোড ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের মধ্যে সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মহাসড়ক। বাংলাদেশের যশোর জেলার নাম অনুসারে সড়কটির নামকরণ করা হয়।
আরও পড়ুন>> কলকাতা বিমানবন্দরে বিপুল ডলারসহ তিন বাংলাদেশি আটক
ব্রিটিশ ভারতের অবিভক্ত বাংলায় কলকাতা ও যশোরের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে ঐতিহাসিক এ সড়ক নির্মাণ করা হয়। পরে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এ সড়ক দিয়েই অনেক বাংলাদেশি সীমান্ত পার হয়ে ভারতে যান ও যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেন। বর্তমানে এ সড়কপথে বাংলাদেশের সঙ্গে হাজার হাজার কোটি রুপির বাণিজ্য চলছে ভারতের।
এসএএইচ