আদালতের সঙ্গে প্রতারণা: কোটি টাকা জরিমানা গুনলো এক কোম্পানি
আদালতের সঙ্গে প্রতারণা করায় এক কোটি টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছে ‘এফএমসি ও-২ লিমিটেড’ নামে এক কোম্পানিকে। এই টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে এফিডেভিট আকারে আদালতকে জানানো হয়। পরে এ সংক্রান্ত বিষয়ে করা আবেদন খারিজ করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
মঙ্গলবার (৭ জুন) দুপুরে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এই টাকা জমা দেন কোম্পানিটির প্রতিনিধিরা। আদালতে আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ (এএম) আমিন উদ্দিন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ ও ব্যারিস্টার খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ। কোম্পানির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. অজি উল্লাহ।
অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে টাকা পরিশোধের রশিদ জমা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী ব্যারিস্টার খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ জানান, প্রথমে এফএমসি ও-২ নামক কোম্পানিকে ঋণগ্রস্ত (লোন ডিফল্ডার) সিআইবি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্ট চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর এফএমসি ও-২ কোম্পানিকে সিআইবি কর্তৃক ঋণগ্রস্ত ঘোষণা স্থগিত করেন আদালত। একই সঙ্গে রুল জারি করেন। পরে ওই স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়াতে থাকেন। পর্যায়ক্রমে স্থগিতাদেশের ওই মেয়াদ বাড়িয়ে যাচ্ছেন।
এভাবে চলতে চলতে এক পর্যায়ে হাইকোর্টকে জানানো হয়, রিট মামলাটি আর চালাতে চায় না কোম্পানি। হাইকোর্টে মামলা শুনানির ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ৩ মার্চ মামলা প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করে কোম্পানিটি। তাদের আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি সাহেদ নুর উদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুল খারিজ করে রায় দেন। পাশাপাশি আদালতের সঙ্গে প্রতারণা করে সময় নষ্ট করায় কোম্পানিকে এক কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।
উচ্চ আদালতের রায়ে জরিমানার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, বিচারিক (নিম্ন) আদালতে আইন অনুযায়ী মামলাটি পরিচালনা না করে তারা চার বছর উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের অপব্যবহার করেছেন। এরপরই গত ৮ মার্চ হাইকোর্টের জরিমানার রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে কোম্পানিটি। আপিল বিভাগ জরিমানা পরিশোধের নির্দেশ দেন। আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী সোমবার (৬ জুন) এক কোটি জরিমানা পরিশোধ করে ব্যাংকের চেকের সত্যায়িত ফটোকপি (এফিডেভিট আকারে) আদালতে উপস্থাপন করেন। আজ ওই টাকা পরিশোধের রশিদ আপিল বিভাগের আদালতে জমা দেন। পরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কোম্পানির আবেদন নিষ্পত্তি করে দেন।
এফএইচ/ইএ/এমএস