ইভ্যালি: পরিচালনা বোর্ডের পদত্যাগসহ সব বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:১১ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২

ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালি পরিচালনায় হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত পরিচালনা বোর্ডের পদত্যাগ এবং অডিটসহ সব বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন আদালতে। এ বিষয়ে হাইকোর্টে নির্ধারিত দিনে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। হাইকোর্টের বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের (কোম্পানি কোর্ট) বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইভ্যালির পরিচালা বোর্ডের দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমদিন বোর্ড মিটিং শুরুর আগে অফিস পরিদর্শনকালে কোনো কক্ষেই চেয়ার, টেবিল ছাড়া কম্পিউটার, ফানির্চার, ল্যাপটপ পাওয়া যায়নি। এমনকি সব সিসি ক্যামেরার ডাটা রেকর্ডারও পাওয়া যায়নি।

আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আজ আমরা রিজাইন করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। গতকাল নয়, আজ আমরা পদত্যাগ করেছি এবং পদত্যাগপত্র হাইকোর্টে জমা দিয়েছি। প্রতিবেদনে ২১ সেপ্টেম্বরের স্বাক্ষর রয়েছে।

ইভ্যালি পরিচালনার জন্য আদালতের নির্দেশে পাঁচজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন কোম্পানির সাবেক চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন, তার মা ফরিদা আক্তার ও বোনের স্বামী মামুনুর রশীদ।

গত ৫ সেপ্টেম্বর পত্র দেওয়া হলে কর্তৃপক্ষ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. কাজী কামরুন নাহার ও ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইক্যাব) সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিনকে মনোনীত করেন।

এছাড়া আদালতের নির্দেশে গঠিত পরিচালনা বোর্ডের পদত্যাগে স্বেচ্ছাধীন (স্বাধীনতা) থাকায় আমরা পাঁচজন বোর্ড থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি, যেটি ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

নতুন পরিচালনা বোর্ডের কাছে অফিসের কাজ, গ্যারেজে রক্ষিত পাঁচটি গাড়ি গোডাউনে রক্ষিত আটটি মিনি কাভার্ডভ্যান, অফিস ও গোডাউনের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব কবীরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে পদত্যাগ বিষয়ে সব গেটওয়ে/ব্যাংক এবং রেজিস্টার জয়েন্ট স্টক কোম্পানিকে (আরজেএসসি) জানিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশে গঠিত পরিচালনা বোর্ডের পদত্যাগের কারণে সিটি ব্যাংক লিমিটেড ধানমন্ডি শাখা এবং সাউথ ইস্ট ব্যাংক ধানমন্ডি শাখায় সব ব্যাংক হিসাব থেকে সাইনিং অথরিটি প্রত্যাহারের জন্য ব্যাংকে পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এদিকে গত ১৬ জানুয়ারি থেকে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) দেওয়া নির্দেশেনার আলোকে ইভ্যালি অফিসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল, আদালতের নির্দেশে গঠিত পরিচালনা বোর্ডের পদত্যাগের কারণে এখন চাইলে পুলিশ প্রত্যাহার করে নিতে পারেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উইন্সকোর্ট ভবনের মালিক সালাউদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির সাবেক চেয়ারমান শামীমা নাসরিন এবং সিইও মোহাম্মদ রাসেলকে ভবনের মালিক সালাউদ্দিনের বাসা থেকে গ্রেফতারের সময় র‍্যাবের অন্য একটি দল দিনের বেলায় অফিস চলাকালীন উইন্সকোর্টে অবস্থিত ইভ্যালির সব ফ্লোরে প্রবেশ করে কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাইকে বের করে দিয়ে অফিসে কিছুক্ষণ অবস্থান করার পরে বের হয়ে যান।

কিন্তু বের হওয়ার সময় র‍্যাবের দল অফিসগুলোতে সিলগালা করে বা তালা মেরে চাবি কারও জিম্মায় দিয়ে যাননি।

উইন্সকোর্ট ভবনের মালিক সালাউদ্দিন বলেন, ওইদিন বিকেল থেকে অফিস অরক্ষিত হয়ে পড়ায় তিনি সন্ধ্যার পর সব ফ্লোরে তালা মেরে চাবি নিজের জিম্মায় রেখে দেন। এরপর অনেকদিন চাবি ভবনের মালিক সালাউদ্দিনের জিম্মায় ছিল। প্রথমদিন অফিসের চতুর্থ তলায় ঢুকে সব রুম এবং করিডোরের সিসিটিভি ক্যামেরার জায়গাগুলো ফাঁকা দেখতে পাই। স্পষ্টত বোঝা যাচ্ছে কে বা কারা নাট-বল্টু খুলে সিসি ক্যামেরাগুলো নিয়ে গেছে। আমার সঙ্গে ওই দিন কোম্পানির (ইভ্যালির) সাবেক ইডি এহসান উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, অফিসে অনেক মূল্যবান ফার্নিচার, অসংখ্য ডেস্কটপ, ল্যাপটপ এবং প্রিন্টার ছিল। কিন্তু এসব কিছুই পাওয়া যায়নি। সব ফাঁকা ছিল।

২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ২৬ অক্টোবর বেলা ১১টায় হাইকোর্টের নিয়োজিত ইভ্যালি পরিচালনা বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শুরুর আগে উইন্সকোর্ট ভবনের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ তলায় অবস্থিত অফিস পরিদর্শন করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্বিতীয় তলায় অফিস কক্ষ থাকলেও দেখায় যায় ভবন মালিক সালাহউদ্দিন দ্বিতীয় তলার সম্পূর্ণ এবং চতুর্থ তলার অর্ধেক অংশ পার্টিশন দিয়ে অন্যের কাছে অফিস ভাড়া দিয়েছেন। চলমান অবস্থায় তিনি কারও অনুমতি না নিয়ে ইভ্যালি অফিস ভাড়া দিতে পারেন কি না চেয়ারম্যানের এমন প্রশ্নের সন্তোষজনক কোনো জবাব ভবন মালিক দিতে পারেননি।

এতে আরও বলা হয়,পরিদর্শনকালে কোনো কক্ষেই চেয়ার টেবিল ছাড়া কম্পিউটার, ফানির্চার, ল্যাপটপ পাওয়া যায়নি। এমনকি সব সিসি ক্যামেরার ডাটা রেকর্ডারও পাওয়া যায়নি। ডিভিআর কে বা কারা খুলে নিয়ে গেছে মর্মে দেখতে পাওয়া যায়।

এফএইচ/ইএ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।