এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকার অদ্ভুত প্রভাব জানেন কি?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:০১ পিএম, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বয়স বাড়লে এক পায়ে দাঁড়ানো যেন হঠাৎ করেই কঠিন হয়ে যায়। সামান্য সময় দাঁড়াতে গেলেই টলমল ভাব হয়, ভারসাম্য হারানোর ভয় লাগে। অথচ এই ছোট্ট পরীক্ষাটিই শরীর ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের বড় ইঙ্গিত দিতে পারে।

শৈশবে এক পায়ে দাঁড়ানো নিয়ে আমাদের আলাদা করে ভাবতে হয় না। সাধারণত ৯–১০ বছর বয়সেই এই দক্ষতা তৈরি হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ৩০-এর শেষ দিকে মানুষ এক পায়ে দাঁড়ানোর সর্বোচ্চ সক্ষমতায় পৌঁছায়। এরপর বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে সেই সক্ষমতা কমতে শুরু করে।

৫০ বছরের বেশি বয়সী কেউ যদি কয়েক সেকেন্ড এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন, চিকিৎসকেরা সেটিকে অত্যন্ত ভালো লক্ষণ মনে করেন। এটি তার সার্বিক স্বাস্থ্য ও বার্ধক্য মোকাবেলার সক্ষমতার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত।

শুধু পা নয়, এখানে জড়িত আছে মস্তিষ্ক

এক পায়ে দাঁড়ানো শুধু পায়ের শক্তির পরীক্ষা নয়। এই ভঙ্গিটি ধরে রাখতে মস্তিষ্ককে একসঙ্গে চোখ, কানের ভেস্টিবুলার সিস্টেম এবং স্নায়ুর মাধ্যমে পাওয়া শরীরের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য সমন্বয় করতে হয়। অর্থাৎ এটি পুরো শরীর–মস্তিষ্কের সমন্বিত কাজ।

এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকার অদ্ভুত প্রভাব জানেন কি?

এই সমন্বয় ক্ষমতা বয়সের সঙ্গে দুর্বল হলে প্রতিক্রিয়ার গতি কমে যায়। হোঁচট খেলে দ্রুত পা সরিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা না থাকলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি ও মৃত্যুঝুঁকির সম্পর্ক

২০২২ সালের একটি বড় গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্যবয়সে যারা এক পায়ে ১০ সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না, তাদের পরবর্তী কয়েক বছরে যে কোনো কারণে মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এমনকি এক পায়ে দাঁড়ানোর পরীক্ষাটি গ্রিপ শক্তি বা বসা থেকে দাঁড়ানোর পরীক্ষার চেয়েও স্বাস্থ্যঝুঁকি বোঝার ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

পেশিক্ষয় ও স্মৃতিশক্তির যোগসূত্র

৩০ বছরের পর প্রতি দশকে শরীরের মাংসপেশীর ভর কমতে থাকে। এই পেশিক্ষয় বা সারকোপেনিয়ার সঙ্গে ভারসাম্যহীনতা, পড়ে যাওয়া, এমনকি ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিরও সম্পর্ক রয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত এক পায়ে দাঁড়ানোর অনুশীলন করেন, তাদের পা ও নিতম্বের পেশি শক্ত থাকে এবং বয়সের সঙ্গে স্মৃতিশক্তি হ্রাসের গতি তুলনামূলক ধীর হয়। আলঝেইমার রোগীদের মধ্যেও যাদের ভারসাম্য ভালো, তাদের জ্ঞানীয় অবক্ষয় ধীরে ঘটে।

এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকার অদ্ভুত প্রভাব জানেন কি?

কীভাবে দৈনন্দিন জীবনে যুক্ত করবেন এই অভ্যাস?

এই ব্যায়ামের জন্য আলাদা সময় বের করতেই হবে, এমন নয়। দাঁত ব্রাশ করার সময়, থালা বাসন ধোয়ার সময় বা রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে এক পায়ে ১০ সেকেন্ড দাঁড়ানোর অভ্যাস গড়ে তোলা যায়। ধীরে ধীরে সময় বাড়ানো যায়। তবে দুই পায়েই অনুশীলন করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন অল্প সময় এই অনুশীলন করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।

এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা শুনতে খুব সাধারণ মনে হলেও এটি শরীর ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য যাচাইয়ের শক্তিশালী একটি উপায়। কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সহজ অভ্যাসটি পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে, পেশি শক্ত রাখতে এবং স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

এএমপি/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।