ছোট্ট সমস্যাতেই চিৎকার করে কান্না-এটা কি শুধুই জেদ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৫৩ পিএম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপনার সন্তান কি চুল কাটতে গেলেই অস্বস্তিতে পড়ে? ভিড় বা জোরে শব্দ হলেই কান ঢেকে ফেলে? কোনো নির্দিষ্ট কাপড় পরতে চায় না, কিংবা কিছু খাবারের টেক্সচার দেখলেই খেতে অস্বীকার করে?

অনেক অভিভাবক একে জেদ বা অভ্যাসের সমস্যা ভাবলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন - এটি হতে পারে সেন্সরি প্রসেসিং ডিফিকাল্টি।

সাধারণভাবে আমাদের মস্তিষ্ক চোখ, কান, ত্বক, নাক ও মুখের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যকে গুছিয়ে নেয়। কিন্তু কিছু শিশুর ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটি ভিন্নভাবে কাজ করে। ফলে আলো, শব্দ, স্পর্শ বা খাবারের অনুভূতি তাদের কাছে অতিরিক্ত তীব্র বা অস্বস্তিকর মনে হয়। যে শব্দ অন্যদের কাছে স্বাভাবিক, সেটিই তাদের জন্য ওভারহেলমিং বা অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে।

ছোট্ট সমস্যাতেই চিৎকার করে কান্না - এটা কি শুধুই জেদ?

গবেষণা বলছে, সেনসরি প্রসেসিং সমস্যায় থাকা শিশুরা দৈনন্দিন কাজেই চাপ অনুভব করে। চুল কাটার সময় মাথায় কাঁচির স্পর্শ, সেলুনের শব্দ, কিংবা টাইট কাপড়ের চাপ - সব মিলিয়ে তাদের স্নায়ুতন্ত্রে অতিরিক্ত উত্তেজনা তৈরি হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় তারা কান্না, রাগ বা এড়িয়ে চলার আচরণ দেখাতে পারে।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো - এটি কোনো আচরণগত সমস্যা নয়, বরং স্নায়ুবিক প্রক্রিয়ার ভিন্নতা। শিশুরা ইচ্ছা করে এমন আচরণ করে না; বরং তাদের মস্তিষ্ক সেই মুহূর্তে পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খায়।

এই জায়গায় অকুপেশনাল থেরাপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অকুপেশনাল থেরাপিস্টরা ধীরে ধীরে শিশুকে বিভিন্ন সেনসরি অভিজ্ঞতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করেন। খেলাধুলা, নির্দিষ্ট অনুশীলন ও দৈনন্দিন কাজের মাধ্যমে শিশুর স্নায়ুতন্ত্র শেখে - কীভাবে উত্তেজনা কমাতে হয় এবং পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হয়।

ছোট্ট সমস্যাতেই চিৎকার করে কান্না - এটা কি শুধুই জেদ?

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত থেরাপি ও পারিবারিক সহায়তা পেলে সেনসরি চ্যালেঞ্জ থাকা শিশুরা ধীরে ধীরে দৈনন্দিন কাজে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে শেখে। তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং সামাজিক পরিবেশে অংশ নেওয়া সহজ হয়।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো - শিশুর আচরণকে বিচার না করে বুঝতে চেষ্টা করা। সেনসরি সমস্যাগুলো বাস্তব, আর সঠিক সহায়তা ও পেশাদার থেরাপির মাধ্যমে এই শিশুরাও স্বাভাবিক ও আনন্দময় জীবনযাপনের পথে এগোতে পারে।

সূত্র: আমেরিকান অকুপেশনাল থেরাপি অ্যাসোসিয়েশন, আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি সেন্টার অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড, মায়ো ক্লিনিক

এএমপি/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।