প্রি-ডায়াবেটিস কী? এটি কি রিভার্স করা যায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:৪৬ পিএম, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে ফাস্টিং সুগার অল্প বেশি এসেছে, কিন্তু ডাক্তার বললেন - এখনো ডায়াবেটিস না, তবে পি-ডায়াবেটিক। এই কথাটা শুনে অনেকেই স্বস্তি পান, আবার অনেকে বিষয়টি হালকাভাবে নেন।

কিন্তু প্রি-ডায়াবেটিস মানে শরীর ইতোমধ্যেই সতর্ক সংকেত দিচ্ছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে সামনে বড় ঝুঁকি অপেক্ষা করছে।

প্রি-ডায়াবেটিস বলতে কী বোঝায়

প্রি-ডায়াবেটিস হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি, কিন্তু ডায়াবেটিস হিসেবে ধরা পড়ার মতো অতটা বেশি নয়। এই সময়েই জীবনযাত্রা বদলাতে পারলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, ফাস্টিং ব্লাড সুগার ১০০–১২৫ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার বা এইচবিএ১সি ৫.৭-৬.৪ শতাংশ হলে তাকে প্রি-ডায়াবেটিস বলা হয়। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, এই সংখ্যাগুলোর মানে হলো - শরীর ধীরে ধীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের দিকে যাচ্ছে।

প্রি-ডায়াবেটিস কী? এটি কি রিভার্স করা যায়

কেন প্রি-ডায়াবেটিস হয়?
প্রধান কারণগুলোর মধ্যে আছে অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, বংশগত ঝুঁকি এবং দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, জীবনযাপনজনিত পরিবর্তনই প্রি-ডায়াবেটিসের অন্যতম বড় কারণ।

লক্ষণ অনেক সময় বোঝা যায় না

প্রি-ডায়াবেটিসের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো - এতে সাধারণত তেমন কোনো স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। ফলে অনেকেই বুঝতেই পারেন না যে তারা ঝুঁকির মধ্যে আছেন। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্লান্তি বা ওজন বাড়ার প্রবণতা দেখা যেতে পারে।

প্রি-ডায়াবেটিস কি রিভার্স করা যায়?
ভালো খবর হলো - হ্যাঁ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি রিভার্স করা সম্ভব। সিডিসির গবেষণা অনুযায়ী, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, ৫-৭ শতাংশ ওজন কমানো এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস প্রি-ডায়াবেটিস থেকে ডায়াবেটিসে যাওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।

প্রি-ডায়াবেটিস কী? এটি কি রিভার্স করা যায়

রিভার্স করতে কী করবেন?

>> প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম

>> ভাত, রুটি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিমিত খাওয়া

>> শাকসবজি, ডাল ও আঁশযুক্ত খাবার বাড়ানো

>> ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা

>> নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই পরিবর্তনগুলো ওষুধ ছাড়াই অনেক মানুষের রক্তে শর্করাকে আবার স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রি-ডায়াবেটিস কোনো ভয় পাওয়ার বিষয় নয়, বরং এটি একটি সুযোগ। এই পর্যায়েই সচেতন হলে ডায়াবেটিসকে দূরে রাখা সম্ভব।

সূত্র: আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)

এএমপি/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।