ইনসুলিন নিলে কিডনি নষ্ট হয়, এটা সত্য নাকি ভুল ধারণা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:২৩ পিএম, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ডাক্তার ইনসুলিন শুরু করার কথা বলতেই অনেক রোগী আঁতকে ওঠেন। কেউ বলেন, ‘ইনসুলিন মানেই চিকিৎসার শেষ ধাপ’, আবার কেউ ভয় দেখান - ইনসুলিন নিলে কিডনি নষ্ট হয়।

এই ভয়ের কারণে অনেকে প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও ইনসুলিন নিতে চান না বা দেরি করেন, যা পরে আরও বড় সমস্যার কারণ হয়। তবে এই ভয়ের পেছনে কতটা সত্যতা আছে জানেন কি?

ইনসুলিন হলো শরীরের একটি স্বাভাবিক হরমোন, যা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ডায়াবেটিসে যখন শরীর নিজে যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না বা ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ করে না, তখন বাইরে থেকে ইনসুলিন দেওয়া হয়।

ইনসুলিন কি সরাসরি কিডনি নষ্ট করে?

না, চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে ইনসুলিন নিজে থেকে কিডনি নষ্ট করে। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইনসুলিন একটি নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি।

তাহলে কিডনি সমস্যা কেন দেখা যায়?

অনেক সময় দেখা যায়, যাদের দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ছিল না, তাদের কিডনি আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত। এই পর্যায়ে এসে ইনসুলিন শুরু করা হয় বলে অনেকের মনে হয় ইনসুলিনই কিডনি সমস্যার কারণ। বাস্তবে মূল ক্ষতি করে দীর্ঘদিন রক্তে অনিয়ন্ত্রিত উচ্চমাত্রার শর্করা।

ইনসুলিন নিলে কিডনি নষ্ট হয়, এটা সত্য নাকি ভুল ধারণা

ইনসুলিন বরং কিডনিকে রক্ষা করে

রক্তে শর্করা বেশি থাকলে কিডনির সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইনসুলিন শর্করা নিয়ন্ত্রণে রেখে এই ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।

কিডনি রোগী কি ইনসুলিন নিতে পারেন?

হ্যাঁ, বরং কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় ইনসুলিনই সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প। মায়ো ক্লিনিকের গাইডলাইনে উল্লেখ আছে, কিছু মুখে খাওয়ার ডায়াবেটিসের ওষুধ কিডনির ওপর চাপ ফেলতে পারে, কিন্তু ইনসুলিন সেই ঝুঁকি তৈরি করে না।

ভুল ধারণার ঝুঁকি

ইনসুলিন শুরু করতে দেরি করলে রক্তে শর্করা দীর্ঘদিন বেশি থাকে, যা কিডনি, চোখ, স্নায়ু ও হৃদ্‌যন্ত্র - সবকিছুর ক্ষতি করে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ইনসুলিনকে ভয় না পেয়ে সঠিক সময়ে শুরু করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ইনসুলিন কিডনি নষ্ট করে না, বরং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কিডনিসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে সুরক্ষা দেয়। তাই ভুল ধারণা নয়, চিকিৎসকের পরামর্শই হওয়া উচিত সিদ্ধান্তের ভিত্তি।

সূত্র: আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, মায়ো ক্লিনিক

এএমপি/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।