তিন মাসের ডায়াবেটিসের হিসাব একবারে পাবেন যে রক্ত পরীক্ষায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:০৪ পিএম, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রিপোর্টে ফাস্টিং সুগার একদিন ঠিক, আরেকদিন একটু বেশি - এমন অভিজ্ঞতা অনেক ডায়াবেটিস রোগীরই আছে। তখন প্রশ্ন আসে, আসলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে তো? এই দ্বিধা দূর করতেই চিকিৎসকেরা এইচবিএ১সি টেস্ট করতে বলেন।

এইচবিএ১সি টেস্ট এমন একটি রক্তপরীক্ষা, যা গত ২ থেকে ৩ মাসে রক্তে শর্করার গড় মাত্রা কেমন ছিল, তা জানায়। একদিনের খাবার বা সাময়িক ওঠানামার প্রভাব এতে পড়ে না। কিন্তু কীভাবে? চলুন জেনে নেওয়া যাক -

এইচবিএ১সি আসলে কী?
এইচবিএ১সি হলো হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে যুক্ত শর্করার পরিমাণ। রক্তের লোহিত কণিকা প্রায় ৩ মাস বেঁচে থাকে। এই সময়ের মধ্যে রক্তে যত বেশি শর্করা থাকে, তত বেশি হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে শর্করা যুক্ত হয়। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন এই পরীক্ষাকেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ বোঝার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় বলে উল্লেখ করেছে।

তিন মাসের ডায়াবেটিসের হিসাব একবারে পাবেন যে রক্ত পরীক্ষায়

কেন এই টেস্ট করা হয়?
এই টেস্টের মাধ্যমে বোঝা যায় - ডায়াবেটিস দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণে আছে কি না। শুধু একদিনের সুগার নয়, বরং নিয়মিত জীবনযাপন ও চিকিৎসা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তার সামগ্রিক চিত্র দেয় এইচবিএ১সি।

এইচবিএ১সি কত হলে ভালো?
সাধারণত এইচবিএ১সি ৫.৭ শতাংশের নিচে থাকলে স্বাভাবিক ধরা হয়। ৫.৭ থেকে ৬.৪ শতাংশ হলে প্রি-ডায়াবেটিস, আর ৬.৫ শতাংশ বা তার বেশি হলে ডায়াবেটিস হিসেবে ধরা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক গাইডলাইন অনুযায়ী, ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় লক্ষ্য থাকে এইচবিএ১সি ৭ শতাংশের নিচে রাখা।

কাদের নিয়মিত এইচবিএ১সি করা দরকার?
যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের প্রতি ৩ থেকে ৬ মাস অন্তর এই টেস্ট করা প্রয়োজন। আবার যাদের প্রি-ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি, তাদের ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শে এই পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।

তিন মাসের ডায়াবেটিসের হিসাব একবারে পাবেন যে রক্ত পরীক্ষায়

এইচবিএ১সি টেস্টের সুবিধা কী?
এই পরীক্ষার জন্য খালি পেটে থাকতে হয় না। দিনের যেকোনো সময় রক্ত দিলেই হয়। ফলে ব্যস্ত জীবনে এটি তুলনামূলকভাবে সহজ এবং নির্ভরযোগ্য একটি পরীক্ষা।

সব মিলিয়ে বলা যায়, এইচবিএ১সি টেস্ট শুধু একটি সংখ্যা নয় - এটি ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনার রিপোর্ট কার্ড। নিয়মিত এই টেস্ট করলে সময়মতো চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন করে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

সূত্র: আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, মায়ো ক্লিনিক

এএমপি/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।