৬০-এর পরও ফিট থাকবেন যেভাবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:০৮ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রতীকী ছবি, এআই দিয়ে বানানো

আমাদের সমাজে মনে করা হয়- ষাট পেরোলেই যেন জীবন শেষ, আর নতুন করে কিছু শুরু করার সময় নেই। তবে এ ধারণা এখন পুরোনো।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে ৬০-এর পরও সক্রিয়, কর্মক্ষম ও মানসিকভাবে সতেজ থাকা সম্ভব। বয়স বাড়া স্বাভাবিক, কিন্তু ভেঙে পড়া জরুরি নয়। তবে প্রশ্ন করতেই পারেন - কীভাবে?

১. নড়াচড়া থামাবেন না

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশিশক্তি ও হাড়ের ঘনত্ব কমে। নিয়মিত হাঁটা, হালকা স্ট্রেংথ ট্রেনিং, ব্যালান্স এক্সারসাইজ- এসব পেশি ও হাড়কে সক্রিয় রাখে। গবেষণা বলছে, সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম হার্টের অসুখ, ডায়াবেটিস ও ডিপ্রেশনের ঝুঁকি কমায়।

তবে ব্যায়াম মানেই জিম নয়; নিয়মিত হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার, হালকা যোগব্যায়ামও কার্যকর।

৬০-এর পরও ফিট থাকবেন যেভাবে

২. পেশি রক্ষা করুন, প্রোটিন বাড়ান

৬০-এর পর শরীরে সারকোপেনিয়া বা বয়সজনিত পেশিক্ষয় শুরু হয়। তাই খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন পর্যাপ্ত প্রোটিন থাকা জরুরি - ডাল, মাছ, ডিম, দুধ, বাদাম প্রোটিনের ভালো উৎস। চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্টও নিতে পারেন।

৩. হার্ট ও রক্তচাপ মনিটরিং

বয়সের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ে। নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ ফিট থাকার মূল কৌশল। হার্টের স্বাস্থ্য ভালো থাকলে কর্মক্ষমতাও দীর্ঘস্থায়ী হয়।

৪. মস্তিষ্ককে অলস করবেন না

শরীরের মতো মস্তিষ্কও অনুশীলন চায়। বই পড়া, নতুন ভাষা শেখা, সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা - এসব মানসিক ক্ষয় কমাতে সাহায্য করে। একাকীত্ব ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে; তাই সামাজিকভাবে ব্যস্ত থাকাও গুরুত্বপূর্ণ।

৫. ঘুমকে অগ্রাধিকার দিন

ঘুমের ব্যাঘাত বয়সের সঙ্গে বাড়তে পারে। কিন্তু মানসম্মত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম স্মৃতি, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ও হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখে। রাতে ভারী খাবার এড়িয়ে চলা ও নির্দিষ্ট সময়ে শোয়া এক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে।

৬০-এর পরও ফিট থাকবেন যেভাবে

৬. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা

ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা, চোখ ও হাড়ের স্বাস্থ্য - এসব বিষয়ে নিয়মিত স্ক্রিনিং জরুরি। প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা এই বয়সে আপনাকে নিরাপদ রাখে।

৭. মানসিক স্থিতি ও স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট

ধ্যান, প্রার্থনা, শ্বাসব্যায়াম - এসব মানসিক চাপ কমায়। দীর্ঘমেয়াদি স্ট্রেস হৃদ্‌রোগ ও হরমোনজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।

বাস্তবতা কী বলছে?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম ও সুষম খাদ্য বার্ধক্যজনিত রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়।

৬০ কোনো শেষ সীমা নয়; এটি একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। শরীরকে সচল রাখা, পুষ্টিতে বিনিয়োগ করা এবং মনকে ইতিবাচক রাখা - এই তিন স্তম্ভেই দাঁড়িয়ে আছে দীর্ঘ, কর্মক্ষম জীবন। বয়স বাড়লেই গতি থামাতে হবে - এমন কোনো নিয়ম নেই।

সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অন এজিং, আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন

এএমপি/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।