শুধু পানি নয়,পানিশূন্যতা এড়ানোর আছে আরও কৌশল
রমজান মাসে দীর্ঘ সময় না খেয়েও পানি পান না করে থাকার ফলে শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি তৈরি হয়। শুধু ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত প্রচুর পানি পান করাই যথেষ্ট নয়, বরং সারা দিনের আর্দ্রতা বজায় রাখতে খাবারের ধরনেও পরিবর্তন আনা জরুরি।
তাই রোজায় দিনের বেলা পানিশূন্যতা এড়ানোর ৫টি কার্যকর লাইফস্টাইল টিপস জেনে নিন -
১. সেহরিতে দইয়ের জাদু
সেহরির খাবারে এক বাটি দই রাখার অভ্যাস করুন। দইয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশই পানি। এটি কেবল শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে না, বরং হজমে সাহায্য করে এবং সারা দিন পেট ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে। এতে থাকা প্রোবায়োটিকস দীর্ঘক্ষণ তৃষ্ণা মেটাতেও কার্যকর।
২. ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলা
ইফতার বা সেহরির পর চা বা কফি পান করার অভ্যাস অনেকেরই আছে। কিন্তু চা-কফি হলো ডাইইউরেটিক, যা শরীর থেকে পানি বের করে দেয় এবং দ্রুত তৃষ্ণা বাড়িয়ে দেয়। রমজানে ক্যাফেইন কমিয়ে ভেষজ চা বা সাধারণ লেবুর শরবত পান করা বুদ্ধিমানের কাজ।

৩. সোডিয়াম বা লবণের পরিমাণ কমানো
অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার, যেমন - চিপস, আচার বা নোনতা ভাজাপোড়া শরীর থেকে পানি শুষে নেয়। সেহরিতে নোনতা খাবার খেলে দিনের শুরুতেই কোষগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তাই রান্নায় লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।
৪. হাইড্রেটিং ফল ও সবজি নির্বাচন
সবজিতে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে। ইফতার ও সেহরিতে শসা (৯৬% পানি), টমেটো (৯৪% পানি) এবং লাউয়ের মতো সবজি বেশি করে খান। ফলের ক্ষেত্রে তরমুজ, কমলা বা আঙুর দারুণ কাজ করে। এসব খাবার কেবল পানি নয়, শরীরকে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইটও সরবরাহ করে।
৫. ঠান্ডা জায়গায় থাকা ও সঠিক পোশাক
দিনের বেলা সরাসরি রোদে যাওয়া এড়িয়ে চলুন। শরীরের তাপমাত্রা বাড়লে ঘামের মাধ্যমে পানি বেরিয়ে যায়। দিনের বেলা হালকা রঙের এবং সুতির ঢিলেঢালা পোশাক পরুন, যা শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করবে।
ইফতারে হুট করে খুব বেশি বরফ ঠান্ডা পানি পান করবেন না, এটি রক্তনালী সংকুচিত করে হজমে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা হেলথ, ওয়েবএমডি, হার্ভার্ড টি.এইচ. চ্যান স্কুল অফ পাবলিক হেলথ
এএমপি/এএসএম