পেটের মেদ বাড়ার কারণ হতে পারে মানসিক চাপ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:১২ এএম, ২৭ মার্চ ২০২৬

বাইরের খাবার তেমন একটা খাওয়া হয় না, নিয়মিত শরীরচর্চাও করেওপেটের ভুঁড়ি বেড়েই চলেছে। অনেকের কাছেই এটি এখন পরিচিত সমস্যা। সাধারণত আমরা ভুঁড়ি হওয়ার জন্য অলস জীবনযাপনকেই দায়ী করি, তবে এর পেছনে মানসিক চাপ বা স্ট্রেস গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে কাজ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীরে কর্টিসল নামক হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই হরমোনের প্রভাবেই ধীরে ধীরে পেটের চারপাশে মেদ জমতে শুরু করে, যাকে বলা হয় কর্টিসল বেলি। তাই লাইফস্টাইল ঠিক থাকলেও স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ভুঁড়ি বাড়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।

মানসিক চাপে কেন ভুঁড়ি বাড়ে
মানসিক চাপে থাকলে শরীরে কর্টিসল হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে। এই হরমোন ঘুম, মেটাবলিজম, রক্তচাপ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। কর্টিসল লেভেল বেশি হলে মিষ্টি, ভাজাপোড়া বা উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। অনেক সময় ‘বিঞ্জ ইটিং’ বা অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়। ফলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি জমা হতে থাকে এবং ধীরে ধীরে ওজন বৃদ্ধি পায়, বিশেষ করে পেটের অংশে।

jago

কর্টিসল বেলির জন্য যে বিষয়গুলো দায়ী
তবে শুধু খাওয়াদাওয়ার অভ্যাসই নয়, কর্টিসল বাড়লে শরীরে আরও কিছু পরিবর্তন দেখা দেয়। এর অন্যতম হলো ঘুমের সমস্যা। অনিদ্রা বা ঘুমের ব্যাঘাত শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং ওজন বাড়ার ঝুঁকি বাড়ায়। একই সঙ্গে রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করতে থাকে। অনেকের ক্ষেত্রে গ্যাস, অম্বল এবং হজমের সমস্যাও দেখা দেয়। এসব মিলিয়ে ধীরে ধীরে স্থূলতার ঝুঁকি তৈরি হয়।

স্ট্রেসে আরো যে সমস্যা হয়
স্ট্রেসের প্রভাব শুধু পেটেই সীমাবদ্ধ থাকে না। অতিরিক্ত মানসিক চাপে অনেকের মুখ ফুলে যায়, বিশেষ করে চোখের চারপাশে ফোলা ভাব দেখা দেয়। এই অবস্থাকে ‘মুন ফেস’ বলা হয়। পাশাপাশি ত্বকে ব্রণের সমস্যা বাড়ে, শরীরে ক্লান্তি অনুভূত হয় এবং কাজ করার শক্তি কমে যায়। দীর্ঘমেয়াদে এই অবস্থা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।

যেভাবে কর্টিসল বেলি থেকে মুক্তি পাবেন
এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রথমেই মানসিক চাপ কমানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতিদিন কিছু সময় নিজের জন্য রাখা, ধ্যান বা রিলাক্সেশন এক্সারসাইজ করা উপকারী হতে পারে। নিয়মিত শরীরচর্চা করাও অত্যন্ত জরুরি। হাঁটা, সাঁতার, সাইকেল চালানো বা হালকা ব্যায়াম শরীরকে সক্রিয় রাখে এবং কর্টিসল লেভেল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। ঘুমাতে যাওয়ার আগে মোবাইল বা অন্যান্য স্ক্রিনের ব্যবহার কমিয়ে দিন। খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনতে হবে। অস্বাস্থ্যকর ও তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা উচিত। ধূমপানের মতো ক্ষতিকর অভ্যাস থাকলে তা পরিত্যাগ করা জরুরি।

সূত্র:দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, হেলথলাইন

এসএকেওয়াই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।