সারাক্ষণ পজিটিভ থাকার চাপে নিজের ক্ষতি করছেন না তো?
আজকাল প্রায়ই শোনা যায়, সবসময় পজিটিভ থাকুন। আপাতদৃষ্টিতে এই পরামর্শগুলো ভালো মনে হলেও, বাস্তবে সবসময় জোর করে ইতিবাচক থাকার চেষ্টা আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থা পরিচিত টক্সিক পজিটিভিটি বা বিষাক্ত ইতিবাচকতা হিসেবে। এটি মূলত সেই পরিস্থিতি, যেখানে মানুষ স্বাভাবিক দুঃখ, হতাশা বা রাগের মতো অনুভূতিকে চেপে রেখে শুধু ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করে।
টক্সিক পজিটিভিটি কী?
টক্সিক পজিটিভিটি হলো এমন মনোভাব, যেখানে ব্যক্তি বা তার চারপাশের মানুষ এটিই মনে করেন যে, নেতিবাচক অনুভূতি অনুভব করা ভুল। ফলে নিজের অনুভূতিকে প্রকাশ করা বা স্বাভাবিকভাবে অনুভব করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই ধরনের মানসিক চাপের কারণে একজন মানুষ নিজের অনুভূতিকে বুঝতে পারে না, কষ্ট বা হতাশার অনুভূতি লুকাতে গিয়ে একাকিত্বে ভোগে এবং মানসিক চাপ বেড়ে যাওয়ার কারণে দীর্ঘমেয়াদে অবসাদ বা উদ্বেগের শিকার হয়। অনেক সময় বন্ধু বা পরিবার ভালো চাইলেও এই চাপা অনুভূতির প্রভাব নেতিবাচক হয়।

টক্সিক পজিটিভিটি তৈরি হওয়ার কারণ
প্রায়ই মানুষ বাস্তবের মুখোমুখি হতে চায় না। কঠিন বাস্তবের সম্মুখীন হলে নিজের আবেগ সামলাতে পারবে না এমন ভয় তাদের মধ্যে জন্মায়। ফলে তারা দুঃখ বা হতাশার অনুভূতিকে চাপা দেয়, নিজের কষ্ট কারো সঙ্গে শেয়ার করতে চায় না এবং সবসময় পজিটিভ থাকার চেষ্টা করে। এই প্রচেষ্টা থেকে তৈরি হয় টক্সিক পজিটিভিটি, যা নিজের আবেগকে স্বাভাবিকভাবে অভিব্যক্তি করার পথে বাধা দেয়।
- আরও পড়ুন
কথায় কথায় মাথায় আগুন লেগে যায়? জানুন কারণগুলো
মেকআপে নয়, প্রথম দেখাতে সবাই মুগ্ধ হবে যেসব কারণে
টক্সিক পজিটিভিটি ক্ষতিকর দিক
টক্সিক পজিটিভিটি থাকলে মানুষের অনুভূতিগুলো প্রাধান্য পায় না। নিজের আবেগকে গুরুত্ব দিতে না পারার ফলে মানসিক চাপ তৈরি হয়। ব্যক্তি নিজের কষ্ট বা ব্যর্থতার জন্য নিজেকেই দোষ দেয়। আঘাত বা কষ্টের বহিঃপ্রকাশ হলে লজ্জিত বোধ করে। দীর্ঘমেয়াদে এটি মানসিক সুস্থতার জন্য মারাত্মক প্রভাব ফেলে। নিজের ব্যর্থতা থেকে শেখার সুযোগও বন্ধ হয়ে যায়, এবং ব্যক্তিগত উন্নতি বাধাগ্রস্ত হয়।
টক্সিক পজিটিভিটি এড়ানোর উপায়
সুস্থ মনের জন্য সব ধরনের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। দুঃখ, রাগ বা হতাশা স্বাভাবিক। এগুলো অনুভব এবং প্রকাশ করা লজ্জার নয়। নিজেকে জোর করে পজেটিভ থাকতে বাধ্য করলে সেই চাপা কষ্ট পরে অবসাদ বা উদ্বেগের রূপ নেয়। প্রিয়জনের পাশে চুপ করে বসে থাকা অনেক সময় জোর করে পজিটিভ থাকার বার্তার চেয়ে কার্যকর হয়।
নিজের অনুভূতি স্বাভাবিকভাবে মেনে নিন। হতাশা, রাগ বা আতঙ্ক-এই সবই জীবনের অংশ। জোর করে পজেটিভ থাকার ভান করবেন না। বাস্তববাদী পরামর্শ ও সমর্থনমূলক মানুষের সঙ্গে থাকুন। নিজেকে সময় দিন এবং নিজের আবেগকে চাপার পরিবর্তে স্বীকার করুন। সোশ্যাল মিডিয়ার ফিল্টারড হ্যাপিনেস থেকে দূরে থাকুন। কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেকে সময় দিন। জোর করে পজিটিভ থাকার চাপ দিবেন না। প্রয়োজনে নিজের অনুভূতি কারো সঙ্গে শেয়ার করুন বা মনোবিদের পরামর্শ নিন।
সূত্র: ভেরিওয়েল মাইন্ড, মায়ো ক্লিনিক, টাইমস অব ইন্ডিয়া, ও অন্যান্য
এসএকেওয়াই