কোরিয়ান গ্লাস স্কিন চাইলে কাঁচা আম ব্যবহার করুন
বর্তমানে কোরিয়ান গ্লাস স্কিন বা কাঁচের মতো উজ্জ্বল ও মসৃণ ত্বক পাওয়ার প্রবণতা বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। দাগহীন, টানটান ও ঝকঝকে ত্বক পেতে অনেকেই দামি স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহার করছেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই কাঙ্ক্ষিত গ্লোড স্কিন পাওয়ার রহস্য লুকিয়ে আছে আমাদেরই পরিচিত কাঁচা আম মধ্যে ।
গ্রীষ্মকালে সহজলভ্য কাঁচা আম শুধু স্বাদের জন্যই নয়, ত্বকের যত্নেও বেশ কার্যকর। এতে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান ত্বকের অকালবার্ধক্য রোধ করতে সাহায্য করে। কাঁচা আমে থাকা ‘ম্যাঙ্গিফেরিন’ নামক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের কোষকে সুরক্ষা দেয় এবং ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
এই উপাদানটি ত্বকের ওপর জমে থাকা মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করে, ফলে ত্বক ধীরে ধীরে উজ্জ্বল ও সতেজ হয়ে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রে এটি প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েটরের মতো কাজ করে, যা স্কিনকেয়ারে আলাদা করে ঘষাঘষি ছাড়াই ত্বক পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।

কোলাজেন বাড়িয়ে বয়সের ছাপ কমায়
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে কোলাজেন উৎপাদন কমে যায়। এর ফলে ত্বক ঝুলে পড়ে, বলিরেখা দেখা দেয় এবং আগের মতো টানটান ভাব থাকে না। কাঁচা আমে থাকা ভিটামিন-সি কোলাজেন উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে ত্বক ধীরে ধীরে আরও দৃঢ়, নমনীয় ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। নিয়মিত কাঁচা আম ব্যবহারে বা খাওয়ার মাধ্যমে ত্বকের বয়সজনিত পরিবর্তন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
রোদ ও দূষণ থেকে প্রাকৃতিক সুরক্ষা
গরমের তীব্র রোদ ও অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এটি ত্বকের কোষ নষ্ট করে দেয় এবং মুখে ট্যান, কালচে দাগ বা পিগমেন্টেশন তৈরি করে। কাঁচা আমে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এই ক্ষতিকর প্রভাবের বিরুদ্ধে কাজ করে। এটি ত্বকের ওপর একটি প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর তৈরি করে, যা দূষণ ও রোদ থেকে ত্বককে কিছুটা হলেও রক্ষা করে। ফলে ত্বক দীর্ঘ সময় সতেজ ও উজ্জ্বল থাকে।
ত্বকের তেলাভাব ও বড় রোমকূপ নিয়ন্ত্রণ করে
অনেকেরই গরমে ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয়ে যায় এবং রোমকূপ বড় হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। কাঁচা আম এখানে প্রাকৃতিক অ্যাস্ট্রিনজেন্ট হিসেবে কাজ করে। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে ফলে রোমকূপ ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসে এবং ত্বক দেখায় আরও মসৃণ ও টানটান। নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের টেক্সচারও অনেক উন্নত হয়।

ঘরোয়াভাবে কাঁচা আম ব্যবহারের উপায়
- কাঁচা আম ত্বকে ব্যবহারের সহজ পদ্ধতি হলো এর পাল্প ব্যবহার করা। কাঁচা আমের পাল্প মুখে ৫ থেকে ১০ মিনিট লাগিয়ে রেখে তারপর ধুয়ে ফেললে ত্বক সতেজ অনুভব হতে পারে।
- অনেকে এর সঙ্গে সামান্য দই ও মধু মিশিয়ে একটি প্রাকৃতিক ফেসপ্যাক তৈরি করেন, যা সপ্তাহে ২ দিন ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এটি ত্বককে কোমল ও উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।
- আরেকটি ঘরোয়া উপায় হলো কাঁচা আম দিয়ে টোনার তৈরি করা। খোসাসহ কাঁচা আম পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি ঠান্ডা করে ব্যবহার করলে এটি প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে কাজ করে। চাইলে এর সঙ্গে সামান্য গোলাপজল মিশিয়ে নিলে ত্বকের অতিরিক্ত তেলাভাবও কমে।
কোরিয়ান গ্লাস স্কিন পাওয়ার জন্য সবসময় দামি পণ্যের প্রয়োজন নেই। আমাদের চারপাশেই এমন অনেক প্রাকৃতিক উপাদান আছে যা ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী। কাঁচা আম তার মধ্যে অন্যতম। এটি ত্বককে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত সঠিকভাবে কাঁচা আম ব্যবহার করলে ত্বক হতে পারে আরও উজ্জ্বল, টানটান ও প্রাণবন্ত।
সূত্র: বি বিউটিফুল, ডিএনএ ইন্ডিয়া, হেলথশটস
- আরও পড়ুন:
শুধু কালো নয়, আইলাইনারের যেসব রং বদলে দেবে লুক
ত্বকের যত্নে কীভাবে বানাবেন সুগার স্ক্রাব, জানুন সঠিক উপায়
এসএকেওয়াই