হাঁটার গতিই জানিয়ে দিতে পারে কতদিন বাঁচবেন, বলছে গবেষণা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৩৭ পিএম, ১৮ মে ২০২৬
ছবি: এআই

সুস্থ থাকার জন্য হাঁটাচলা করার পরামর্শ চিকিৎসকেরা সবসময়ই দিয়ে থাকেন। কেউ সকালে হাঁটেন, কেউ আবার বিকেলে সময় বের করে পার্ক বা রাস্তায় হাঁটতে বের হন। তবে কখনো কি খেয়াল করেছেন, আপনি ঠিক কতটা গতিতে হাঁটছেন? চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, একজন মানুষের হাঁটার গতি তার ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য ও আয়ু সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।

গবেষকদের মতে, যারা স্বাভাবিকের তুলনায় একটু দ্রুত হাঁটেন, তারা সাধারণত দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেশি রাখেন। অর্থাৎ হাঁটার অভ্যাস শুধু শরীর ফিট রাখে না, বরং এটি দীর্ঘায়ুর সঙ্গেও জড়িত।

হাঁটার গতি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

দ্রুত হাঁটা মানে শুধু তাড়াহুড়া করে হাঁটা নয়। এটি আসলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের সমন্বিত কাজের একটি প্রকাশ। একজন মানুষ যখন দ্রুত হাঁটেন, তখন তার হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, পেশি, হাড়ের সংযোগস্থল এবং স্নায়ুতন্ত্র একসঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করে।

চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত হাঁটার সক্ষমতা বোঝায় যে শরীরের এসব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এখনো ভালোভাবে কাজ করছে। অন্যদিকে ধীরগতির হাঁটা কখনো কখনো শারীরিক দুর্বলতা বা ভেতরের কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

 jago

গবেষণায় কী উঠে এসেছে

আমেরিকার পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দীর্ঘ সময় ধরে প্রায় ২৫ হাজার প্রবীণ মানুষের ওপর একটি গবেষণা চালান। সেখানে দেখা যায়, যারা প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১ মিটার বা তার বেশি গতিতে হাঁটতে পারেন, তাদের গড় আয়ু তুলনামূলক বেশি।

অন্যদিকে, যাদের হাঁটার গতি প্রতি সেকেন্ডে ০.৮ মিটারের কম, তাদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে। গবেষকদের মতে, হাঁটার গতি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে একে রক্তচাপ বা পালস রেটের মতো একটি ‘ভাইটাল সাইন’ হিসেবেও বিবেচনা করা যেতে পারে।

বিশেষ করে ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে হাঁটার গতি স্বাস্থ্যঝুঁকি বোঝার একটি কার্যকর উপায় হিসেবে কাজ করে।

ধীরগতির হাঁটা কীসের ইঙ্গিত দেয়

চিকিৎসকদের মতে, হাঁটার গতি কমে যাওয়া অনেক সময় হৃদরোগ, স্ট্রোক কিংবা ডিমেনশিয়ার মতো স্নায়বিক সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। কারণ শরীর দুর্বল হয়ে গেলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই ধীরে হাঁটতে শুরু করেন।
তবে এর মানে এই নয় যে ধীরে হাঁটা মানেই বড় অসুখ। বরং এটি হতে পারে শরীরের একটি সতর্ক সংকেত, যা আমাদের আরও সচেতন হওয়ার সুযোগ দেয়।

jago

দ্রুত হাঁটার উপকারিতা

দ্রুত হাঁটার সবচেয়ে বড় উপকার হলো এটি হৃদযন্ত্রকে সক্রিয় রাখে। নিয়মিত দ্রুত হাঁটলে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

এ ছাড়া দ্রুত হাঁটার ফলে শরীর বেশি ক্যালরি খরচ করে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য ব্রিস্ক ওয়াকিং খুবই ভালো একটি ব্যায়াম।

মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও দ্রুত হাঁটা উপকারী। হাঁটার সময় শরীরে এন্ডোরফিন নামের এক ধরনের হরমোন তৈরি হয়, যা মন ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং মানসিক চাপ কমায়।

এ ছাড়া এটি পায়ের পেশি শক্তিশালী করে, জয়েন্ট সচল রাখে এবং বয়স বাড়লেও শরীরকে কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে।

কীভাবে হাঁটার অভ্যাস বদলাবেন

হঠাৎ করে খুব দ্রুত হাঁটা শুরু করার প্রয়োজন নেই। চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, প্রতিদিনের স্বাভাবিক হাঁটার গতি একটু একটু করে বাড়ানোর চেষ্টা করুন।

প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট এমনভাবে হাঁটুন যাতে সামান্য ঘাম হয় এবং বুক কিছুটা ধড়ফড় করে, তবে কথা বলতে সমস্যা না হয়। এটিই ব্রিস্ক ওয়াকিংয়ের আদর্শ গতি।

হাঁটা আমাদের জীবনের সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর ব্যায়ামগুলোর একটি। কিন্তু শুধু হাঁটলেই হবে না, হাঁটার গতির দিকেও নজর দিতে হবে। কারণ গবেষণা বলছে, আপনার হাঁটার গতি ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, হেলথ লাইন

এসএকেওয়াই  

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।