ঘুমে ব্যাঘাত হলে হরমোনে যে প্রভাব পড়তে পারে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:৩৩ এএম, ০৯ মার্চ ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রোজায় ঘুমের সময়সূচি অনেক নারীর ক্ষেত্রে বদলে যায়। সেহরি এবং ইফতারের সময় ঠিক রাখা, রাতের দেরিতে ঘুমানো বা ঘুম কম হওয়া এসব কারণে শরীরের হরমোন ভারসাম্য প্রভাবিত হতে পারে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি, স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ এবং গাইনি ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. রুখসানা পারভীন।

ডা. রুখসানা পারভীন বলেন, নারীর শরীরে ঘুম ও হরমোনের সম্পর্ক খুব সংবেদনশীল। ঘুমে ব্যাঘাত হরমোনের মাত্রা, মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণ ও প্রজনন স্বাস্থ্যকেও প্রভাবিত করে।

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি, স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ এবং গাইনি ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. রুখসানা পারভীনছবি: কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি, স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ এবং গাইনি ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. রুখসানা পারভীন

ঘুম ও হরমোনের সম্পর্ক

নারীর শরীরে মূল হরমোনগুলো (যেমন-এস্ট্রোজেন, প্রজেস্টেরন, করটিসল এবং লেপটিন) ঘুমের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। ডা. রুখসানা পারভীন জানান, যদি ঘুমের পরিমাণ কমে যায় বা রাতের ঘুমের সময় স্থির না থাকে, তবে এই হরমোনগুলোর ভারসাম্য ভাঙতে শুরু করে। এর প্রভাব যেমন মানসিক চাপ, হতাশা বা ক্লান্তি বৃদ্ধি, তেমনি ওজন বৃদ্ধি এবং চর্বি জমার ঝুঁকিও বাড়ায়।

ঘুমে ব্যাঘাত হলে হরমোনে যে প্রভাব পড়তে পারে

ঘুমে ব্যাঘাতের সরাসরি প্রভাব নিয়ে ডা. রুখসানা পারভীন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব উল্লেখ করেছেন। যথা-

  • রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে স্ট্রেস হরমোন করটিসলের মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে উদ্বেগ, চাপ এবং রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে পারে।
  • প্রজনন হরমোনে ব্যাঘাত ঘটে। এস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
  • পিরিয়ড অনিয়মিত হওয়া, প্রজননশক্তিতে সমস্যা বা চর্ম সমস্যার সম্ভাবনা।
  • লেপটিন ও ঘ্রেলিন হরমোনের প্রভাব ফেলে। লেপটিন ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে, ঘ্রেলিন ক্ষুধা বাড়ায়। ঘুম কম হলে ক্ষুধা বাড়ে, অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে, যা ওজন বৃদ্ধির কারণ।
  • ঘুমের ঘাটতি নারীর মনোযোগ, স্মৃতি ও মানসিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করে

ঘুমে ব্যাঘাত হলে হরমোনে যে প্রভাব পড়তে পারে

রমজানে ঘুম ঠিক রাখার পরামর্শ

ডা. রুখসানা পারভীন বলেছেন, ‘রমজানে ঘুমের সময়সূচি পরিবর্তন সহজভাবে স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে, তবে কিছু ছোট ছোট ব্যবস্থা গ্রহণ করলে হরমোন ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব।’

  • সেহরির আগে হালকা ঘুম, রাতের ইফতারের পরে ৬-৭ ঘণ্টার ঘুম চেষ্টা।
  • আলো ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস কম ব্যবহার। রাতের ঘুমের আগে ফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার কমানো।
  • ঘুমের পরিবেশ শান্ত, অন্ধকার এবং হালকা রাখার চেষ্টা।
  • ঘুমের আগে হালকা হাঁটাহাঁটি বা স্ট্রেচিং করলেই ঘুমের মান উন্নত হয়।
  • ইফতার ও সেহরিতে ভারসাম্যপূর্ণ খাবার গ্রহণ করা।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করা

আরও পড়ুন: 

মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য বজায় রাখা

ডা. রুখসানা পারভীন বলেন, রমজানেও নারীর উচিত নিজের ঘুম ও হরমোনের যত্ন নেওয়া। ঘুমে ব্যাঘাত মানসিক চাপ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং শারীরিক দুর্বলতার কারণ হতে পারে। তাই ঘুমকে অগ্রাধিকার দিন।

জেএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।