কোঁকড়া চুলের সঠিক যত্নে যেসব বিষয় জানা জরুরি
চুলের ধরন যেমনই হোক, সুস্থ ও সুন্দর না হলে কোনো সাজই ঠিকভাবে ফুটে ওঠে না। তাই চুলের সঠিক যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমেই জানতে হবে নিজের চুলের ধরন। অনেকেই মনে করেন নিয়মিত শ্যাম্পু বা কিছু সাধারণ যত্ন নিলেই যথেষ্ট। কিন্তু বাস্তবে চুলের ধরন অনুযায়ী যত্নের ধরনও ভিন্ন হওয়া উচিত। বিশেষ করে কোঁকড়া চুলের ক্ষেত্রে যত্ন নেওয়ার নিয়ম একটু আলাদা।
সাধারণত কোঁকড়া চুল অন্য অনেক ধরনের চুলের তুলনায় বেশি শুষ্ক ও ভঙ্গুর হয়ে থাকে। তাই এ ধরনের চুলের যত্নেও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। সঠিকভাবে যত্ন না নিলে কোঁকড়া চুল দ্রুত দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং সহজেই ভেঙে যায়। তাই শ্যাম্পু ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সচেতন থাকা জরুরি। কোঁকড়া চুল যেহেতু স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা শুষ্ক হয়, তাই চুলের ধরন বুঝে হেয়ার কেয়ার পণ্য ব্যবহার করাই ভালো।

শ্যাম্পু করার আগে অন্তত এক ঘণ্টা আগে চুলে তেল লাগানো উপকারী। নারকেল তেল, অলিভ অয়েল কিংবা অন্য যেকোনো প্রাকৃতিক তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। অনেকেই চুল পরিষ্কার ও ঝরঝরে রাখতে প্রায় প্রতিদিন শ্যাম্পু করেন। কিন্তু কোঁকড়া চুলের ক্ষেত্রে এটি ঠিক নয়। এতে চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট হয়ে গিয়ে আরও শুষ্ক ও ভঙ্গুর হয়ে পড়তে পারে।
শুষ্ক ধরনের কোঁকড়া চুলে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবারের বেশি শ্যাম্পু করার প্রয়োজন পড়ে না। শুধু শ্যাম্পু করলেই হবে না, নিয়মিত কন্ডিশনার ব্যবহার করাও জরুরি। বিশেষ করে কম রাসায়নিকযুক্ত বা প্রাকৃতিক কন্ডিশনার কোঁকড়া চুলের জন্য বেশি উপকারী। চাইলে ঘরোয়া উপায়ে তৈরি কন্ডিশনারও ব্যবহার করা যায়। যেমন চায়ের লিকার বা অল্প ভিনেগার মিশিয়ে ব্যবহার করলে চুল নরম ও উজ্জ্বল থাকে। পাশাপাশি ময়েশ্চারাইজিং কন্ডিশনার কোঁকড়া চুলের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

তবে সবার কোঁকড়া চুল যে শুষ্ক হবে, তা নয়। অনেকের ক্ষেত্রে কোঁকড়া চুল তৈলাক্তও হতে পারে। সেক্ষেত্রে যত্নের ধরন কিছুটা আলাদা হবে। তৈলাক্ত চুলে প্রয়োজনে প্রতিদিন শ্যাম্পু করা যেতে পারে, তবে শ্যাম্পু অবশ্যই মাইল্ড বা কোমল হওয়া উচিত। এ ধরনের চুলে বারবার তেল ব্যবহার না করাই ভালো। লেবু উপাদানযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করলে মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখতে সুবিধা হয়।

কোঁকড়া চুলের ক্ষেত্রে মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ ধরনের চুলের ঘন ও পাকানো গঠনের কারণে অনেক সময় চুলের গোড়ায় আলো-বাতাস ঠিকভাবে পৌঁছায় না। ফলে মাথার ত্বকে ঘাম জমে এবং ময়লা আটকে থেকে খুশকির সমস্যা দেখা দিতে পারে। চুল শুকানোর সময় হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার না করাই ভালো। অতিরিক্ত তাপ কোঁকড়া চুলকে আরও দুর্বল ও ভঙ্গুর করে তুলতে পারে। তাই স্বাভাবিকভাবে চুল শুকাতে দেওয়াই নিরাপদ।
আরও পড়ুন:
- চুলের রং ধরে রাখার জন্য খেতে পারেন এই ৫ খাবার
- কোল্ড থেরাপিতে ফিরছে প্রিয়াঙ্কার ত্বকের জৌলুস
- ঘরে বসেই ত্বক পরিষ্কার করুন এই উপাদান দিয়ে
সুস্থ চুলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মাথার ত্বকের যত্ন নেওয়া। এ ক্ষেত্রে নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল হালকা গরম করে মাথায় ম্যাসাজ করা বেশ উপকারী। আঙুলের সাহায্যে গোলাকারে ধীরে ধীরে ম্যাসাজ করলে মাথার ত্বকে রক্তসঞ্চালন বাড়ে, যা চুলের গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করে।

এছাড়া চুল ভালো রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাসও অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা এবং খাবারের তালিকায় সবুজ শাকসবজি রাখা উচিত। সুষম খাদ্য শরীরকে যেমন পুষ্টি দেয়, তেমনি চুলের সুস্থতা ও শক্তি বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জেএস/