জাগো নিউজের সঙ্গে একযুগ: স্মৃতি সংগ্রাম ও ভালোবাসার গল্প
২০১৫ সালের এক রাতে একটি ফোনকল বদলে দিয়েছিল আমার পেশাগত জীবনের পথচলা। তখনও জানতাম না অনলাইন নিউজপোর্টাল ‘জাগো নিউজ’ একদিন আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে পরিণত হবে। দেখতে দেখতে সেই পথচলারও প্রায় এক যুগ পেরিয়ে গেছে।
গভীর আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, দেশের অন্যতম জনপ্রিয় অনলাইন নিউজপোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কম আপনাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতায় এক যুগ অতিক্রম করেছে।
সাংবাদিকতায় পেশাদারত্ব বজায় রেখে একটি অনলাইন নিউজপোর্টাল কীভাবে পাঠকের হৃদয় জয় করে সামনে এগিয়ে যেতে পারে, তার বড় উদাহরণ জাগো নিউজ।
সমসাময়িক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সব বিষয়ে—রাজনীতি, অর্থনীতি, অপরাধ, আইন ও বিচার বিভাগ, ক্রীড়া, বিনোদন এবং নারী ও শিশু অধিকারসহ নানা বিষয়ে দ্রুত ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে আমরা সদা তৎপর।
শুধু ভিউ পাওয়ার জন্য সস্তা ধরনের সংবাদের পেছনে আমরা কখনো ছুটি না। এজন্য দেশ-বিদেশের লাখো পাঠক কোনো সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ে যে কয়েকটি অনলাইনের প্রতি আস্থা রাখেন, জাগো নিউজ তাদের অন্যতম।
জাগো নিউজের সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততার শুরুটা দৈনিক যুগান্তরে আমার সাবেক সহকর্মী ও জাগো নিউজের তৎকালীন চিফ নিউজ এডিটর মহিউদ্দিন সরকারের মাধ্যমে হয়েছিল।
একদিন রাতে তিনি ফোন করে জানতে চাইলেন, নতুন একটি অনলাইন নিউজপোর্টালে কাজ করতে আগ্রহী কি না। তখনই প্রথম জাগো নিউজের নাম শুনি। তখন জাগো নিউজের সম্পাদক ছিলেন সুজন মাহমুদ ভাই।
পরদিন মধ্যবাড্ডার হোসেন মার্কেটে কথাবার্তার মাধ্যমে ২০১৫ সালের ১ জুন বিশেষ সংবাদদাতা হিসেবে জাগো নিউজের সঙ্গে আমার পথচলা শুরু।
সে সময় আমাদের কর্মীসংখ্যা ছিল খুবই কম। রিপোর্টিংসহ বিভিন্ন বিভাগে যাদের সঙ্গে কাজ করেছি, তাদের মধ্যে ছিলেন সিরাজুজ্জামান হেলালা, সাঈদ আরমান, মোস্তফা মানিক, শফিকুল ইসলাম, আদনান রহমান ও জসিমউদ্দিনের নাম।
অন্য বিভাগে ছিলেন ড. হারুন রশীদ, আরিফুল ইসলাম আরমান, আবদুর রাজ্জাক, মাহাবুর রহমান সোহাগ, হোসাইন ইমাম সোহেল, আনোয়ার হোসেন, রোকনুজ্জামান সেলিম, সাখাওয়াত হোসেন সুজন, লিমন আহমেদ, বুলবুল আহমেদ, সালাহউদ্দিন আহমেদ, মু. ফারুক আলম, মিথুন সরকার ও রবিউল ইসলাম পলাশ।
পরে রফিক মজুমদার, ফজলুল হক শাওন, রফিক আহমেদ, আরিফুর রহমান বাবু, জাহাঙ্গীর আলম, শাহেদ শফিক, আবু সালেহ সায়াদাত, আমানউল্লাহ আমানসহ আরও অনেকে এই টিমে যুক্ত হন।
তাদের অনেকেই বর্তমানে দেশের শীর্ষ জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। কেউ কেউ আবার প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছেন।
গত এক যুগে জাগো নিউজ অনেক বাধাবিপত্তির মুখে পড়লেও বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সম্পাদক কে এম জিয়াউল হকের নেতৃত্বে জাগো নিউজের সঙ্গে থেকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
আলহামদুলিল্লাহ, আমরা সফলও হয়েছিলাম। সেই সময়টিই হয়তো আমাদের শিখিয়েছে—একটি প্রতিষ্ঠান শুধু অফিস বা ব্র্যান্ড নয়, এটি মানুষের শ্রম, আবেগ ও বিশ্বাসের সমষ্টি।
এই এক যুগে জাগো নিউজের সঙ্গে নতুন নতুন অনেক সহকর্মী যুক্ত হয়েছেন। আমাদের রিপোর্টাররা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), ইউনিসেফ মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ), ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশসহ (ক্র্যাব) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্মানজনক পুরস্কার অর্জন করেন। ঢাকার বাইরের জেলা প্রতিনিধিরাও দারুণ সব প্রতিবেদন করে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
শুধু সাংবাদিকতায় নয়, সাংবাদিকদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায়ও একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে জাগো নিউজ পরিবার।
পাঠকদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে—জাগো নিউজ অন্যদের চেয়ে আলাদা কেন? আমার কাছে এর উত্তর খুবই সহজ। এই প্রতিষ্ঠানের মালিকানার সঙ্গে যারা যুক্ত, তারা আমাদের মধ্যে আরও ভালো করার ক্ষুধা জাগিয়ে রাখেন। আত্মতুষ্টিতে ভুগতে দেন না। সবসময় মনে করিয়ে দেন—থেমে গেলে পিছিয়ে পড়তে হবে। তারা কখনোই নিজেদের স্বার্থে প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করবেন না।
ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, কোনো প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে কর্মীদের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাগো নিউজ কর্তৃপক্ষ এ জায়গাটিতে সবসময় আন্তরিক। প্রতি মাসে সময়মতো বেতন-ভাতা পরিশোধ, উৎসব বোনাস, বৈশাখী ভাতা, ছুটির বকেয়া ও ইনক্রিমেন্টসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা কর্মীদের কাজের অনুপ্রেরণা বাড়িয়ে দেয়।
‘পেটে খেলে পিঠে সয়’—এই প্রবাদটির বাস্তব প্রতিফলন আমরা প্রতিদিন অনুভব করি। নিয়মিত বেতন-ভাতা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আমরা আরও আন্তরিকভাবে কাজ করার শক্তি পাই।
ঢাকাসহ সারা দেশে আমাদের রিপোর্টার ও স্টাফদের পাশাপাশি রয়েছে তরুণদের সমন্বয়ে গড়া একটি দক্ষ মাল্টিমিডিয়া টিম। আধুনিক স্টুডিও থেকে নিয়মিত বুলেটিন ও নানা আয়োজনও পরিচালিত হচ্ছে।
বর্তমান যুগ ডিজিটালের যুগ। এক যুগ আগে রবিউল ইসলাম পলাশের মাধ্যমে ক্ষুদ্র পরিসরে জাগো নিউজের ডিজিটালের যাত্রা শুরু।
সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের আরও দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি আমরা। হয়তো পাঠকের সব চাহিদা পূরণ করতে পারছি না, কিন্তু চেষ্টার কোনো কমতি নেই।
এক যুগের এই পথচলায় পাঠকের ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। সামনে আরও দায়িত্ব, আরও চ্যালেঞ্জ। সেই পথচলায় আপনাদের ভালোবাসা ও আস্থাই আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।
লেখক: মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল, প্ল্যানিং এডিটর অ্যান্ড রিপোর্টিং ইনচার্জ, জাগোনিউজ২৪.কম