গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জাতীয় ছাত্রশক্তির
দেশের চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং আসন্ন নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা। একইসঙ্গে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে নাগরিক অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান জানান নেতারা। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা একথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় দপ্তর ও প্রকাশনা সম্পাদক রহমান সৌরভ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছিল, তাদের প্রধান দায়িত্ব ছিল গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিশ্চিত করা এবং একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়া। কিন্তু বাস্তবে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের বিভিন্ন দপ্তরে সেই নিরপেক্ষতার ঘাটতি স্পষ্ট।
রহমান সৌরভ অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন প্রত্যাশিত নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। সাধারণ নাগরিকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া কঠিন করে তোলা হয়েছে, অথচ ঋণখেলাপিদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের শর্তকে তিনি যোগ্য নাগরিকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরকে বিশ্বাস করতে না পারার কারণেই দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করতে হয়েছিল। এই বাস্তবতায় জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গণভোটই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনাদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে নাগরিক অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান জানালাম।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে দেশবাসী ভোট কারচুপি ও সহিংসতার যে চিত্র দেখেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদরা তার অবসান চেয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই আশঙ্কাই আবার উসকে দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন আসনে হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনা প্রমাণ করে যে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ব্যালট বাক্স দখলের আশঙ্কা এখনো রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে ও গোপনে গণভোটের বিরোধিতা করছে, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।
জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাবি শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব মোহাম্মদ সাকিব দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বারবার নিজেদের ব্যর্থ প্রমাণ করেছে। কখনো কখনো তারা একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতি স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার পরিচয় দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে ঋণখেলাপি ও নৈতিকতাবিহীন ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।
এফএআর/জেএইচ