স্বল্প আয়ের মানুষের ভরসা ফুটপাতের ইফতারি
পবিত্র রমজান মাস এলেই রাজধানীতে বাড়তে থাকে ইফতারি সামগ্রীর বেচাকেনা। বড় বড় রেস্তোরাঁ ও নামি দামি দোকানে সাজানো থাকে নানান পদের আকর্ষণীয় খাবার। তবে উচ্চমূল্যের কারণে এসব জায়গা থেকে ইফতারি কেনা অনেক স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য কেবলই দূরের স্বপ্ন। তাই তাদের ভরসা ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানগুলো।
রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দুপুরের পর থেকেই ফুটপাতজুড়ে বসেছে ছোট ছোট ইফতারির স্টল। সেখানে ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, জিলাপি থেকে শুরু করে শরবত- সবই তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়। রিকশাচালক, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ নিম্ন আয়ের মানুষ ভিড় করছেন এসব দোকানে। প্রতি পিস ৫ থেকে ১০ টাকায় পাওয়া যায় বেশিরভাগ আইটেম।

ইফতারি কিনতে আসা এক রিকশাচালক বলেন, রেস্টুরেন্টের ইফতারি কিনতে গেলে একদিনের আয়ই শেষ হয়ে যাবে। এখানে কম টাকায় পেট ভরে খাওয়া যায়, তাই ফুটপাতই ভরসা।
বিক্রেতারাও বলছেন, রমজান মাস তাদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করে। অনেকেই অন্য পেশার পাশাপাশি এই সময়ে ইফতারি বিক্রি করেন। তবে বাড়তি ভাড়া, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং কখনো কখনো উচ্ছেদের আশঙ্কা তাদের বড় দুশ্চিন্তা।
আরও পড়ুন
ছুটির দিনে জমজমাট বেইলি রোডের ইফতারি বাজার
সুতি কাবাব: ইফতারির টেবিলে শত বছরের স্বাদ
রাস্তার পাশে প্রতিদিন ইফতার করেন কয়েকজন রিকশাচালক। তাদের মধ্যে জাফর আলী নামের একজনের কাছে জানতে চাওয়া হয় কেমন লাগে রাস্তার পাশে ইফতার করতে? জবাবে বলেন, এখন রোজার দিন। সন্ধ্যায় কয়েকজন মিলে একসঙ্গে ইফতার করি। সবার সঙ্গে ইফতার করে অনেক আনন্দ পাই। সামান্য ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজু, বেগুনি কিনে ইফতার করি- এটাই আমার বড় তৃপ্তি।

আলী আলজ নামের একজন ইফতারি বিক্রেতা বলেন, প্রতি পিস ৫ থেকে ১০ টাকার মধ্যে সব ধরনের আইটেম বিক্রি করি। দাম কম তাই বেচাবিক্রিও ভালো। ইফতারের আগ মুহূর্তে বিক্রি বেশি হয়।

রমজানের আমেজে শহরজুড়ে ইফতারির আয়োজন যতই জমজমাট হোক, বাস্তবতা হলো ঝলমলে দোকানের আলো নয়, ফুটপাতের সাধারণ আয়োজনেই প্রতিদিনের রোজা ভাঙছেন হাজারও স্বল্প আয়ের মানুষ।
টিটি/কেএসআর