মানবপাচারে চার সিন্ডিকেট
বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ প্রতি বছর সমুদ্র পথে অবৈধভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মালেয়শিয়া যাচ্ছে। এদের বেশিরভাগ মানুষই কোন না কোন দালাল চক্রের মাধ্যমে এ পথে পা বাড়ায়।
মাঝে মাঝেই সমুদ্রের বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়। সর্বশেষ সোমবার মালেয়শিয়ার পুলিশ উদ্ধার করেছে প্রায় ১৪শ অভিবাসী। এদের মধ্যে ৫৫৫ জন বাঙালি ও ৪৬৩ জন রোহিঙ্গা আর বাকিদের পরিচয় এখনও জানতে পারেনি পুলিশ।
মালয়েশিয়াতে অভিবাসন নিয়ে যারা কাজ করা একটি সংগঠন জানান, মূলত বাংলাদেশসহ চারটি দেশের সিন্ডিকেট যৌথভাবে অবৈধভাবে এই পাচারের সঙ্গে কাজ করছে। আবার কখনও কখনও এর সঙ্গে এসব দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সীমান্ত প্রহরী বাহিনীর একটি অংশ সরাসরি কাছ করছে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা কারাম এশিয়ার কর্মকর্তা হারুন-উর-রশিদ বিবিসিকে জানান, সীমান্তে তো আইন রক্ষাকারী বাহিনীর সমর্থন ছাড়া এমন পাচার কখনই সম্ভব নয়। পুরো বিষয়টির সঙ্গেই দুর্নীতি জড়িত। তা না হলে যারা জড়িত হিসেবে ধরা পড়ছে তাদেরতো কখনও বিচারই হয় না।
মালয়েশিয়াতে অবৈধভাবে যেসব বাংলাদেশি যায়, তাদেরকে সেখানে নেয়ার জন্য মালয়েশিয়ার চক্র কিভাবে কাজ করে এমন প্রশ্নের জবাবে হারুন-উর-রশিদ বলেন, তাদের গবেষণা অনুযায়ী মালয়েশিয়াতে একটি বাংলাদেশের সিন্ডিকেট রয়েছে। আর এদের সঙ্গে আছে বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যায়ের একটি সিন্ডিকেট। বাংলাদেশের দলটি দেশটি থেকে লোকজন সংগ্রহ করে। আর মালেশিয়ার দলটি পাচার হওয়া ওদের ভাই বা বোন ইত্যাদি পরিচয় দিয়ে মালেয়শিয়াতে প্রবেশ করায়।
তিনি জানান, অবৈধভাবে নেয়া মানুষজন যদি কোন ভাবে কক্সবাজার থেকে মালয়েশিয়ার পেনাং, লাঙ্কাউয়ে বা থাইল্যান্ডের সীমান্তে পৌঁছতে পারে তাহলে কোন একটা জায়গায় গিয়ে স্থানীয় দালাল বা ফ্যামিলীকে কল দিতে শুরু করে পাচারকারীরা। এরপর যদি টাকা না পায় তাহলে বাসা বাড়িতে আটকে টাকা আদায় করে। পরে তাদের প্রতিবেশী বা আত্মীয় স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে।
মালয়েশিয়ার নাগরিক জড়িত কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে হারুন-উর-রশিদ বলেন, এখানে চার দেশের নাগরিকরা জড়িত, তা না হলে এটা সম্ভব না। মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ, থাই ও মায়ানমারের লোকজন জড়িত আছে। এর সঙ্গে এই চারটি দেশের সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীও জড়িত।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত যারা এই অবৈধভাবে পৌঁছাতে পারে তারা সেখানে গিয়ে কি করে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোন ভাবে তারা একটা কাজ জোগাড় করে নেয়। তবে এ ক্ষেত্রে আটক হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
রশিদ আরো বলেন, অনেকে নৌকায় করে আসার পথেই মারা যায়। আবার অনেককে মালয়েশিয়ায় আসার পর আটকে রেখে কাজ করানো হয়। যেমন ফিশিং বোটে কাজ করানো হয় কিন্তু টাকা দেয়া হয়না। ফিশিং বোটেও অনেকে মারাও গেছে। তাদের হিসেব অনুযায়ী প্রায় সাত লাখ বাংলাদেশী মানুষ এখন অবৈধভাবে অবস্থান করছে মালয়েশিয়ায় ।
জেআর/এমএস