শরতেও ঘনঘোর বরষা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:০৬ পিএম, ০১ অক্টোবর ২০১৭
ফাইল ছবি

শরতের স্বচ্ছ ঘননীল আকাশে ওড়ে বেড়ায় সাদা মেঘ। হালকা হয়ে আসে রোদের তেজ। প্রকৃতিতে দেখা দেয় হেমন্তের আগমনী বার্তা। কিন্তু এবারের শরৎ যেন উল্টা বার্তা হয়ে এনেছে। চলছে শ্রাবণের মতো ঘনঘোর বৃষ্টি। আবার কখনওবা গ্রীষ্মের মতো তীব্র গরম।

অন্তত গত কয়েকদিনের আবহাওয়া তাই বলছে। ঝুম বৃষ্টি আর অন্ধকার করা মেঘ কেবলই মনে করিয়ে দেয় আষাঢ় কিংবা শ্রাবণ মাসের কথা। এ যেন শরতে ‘ঘনঘোর বরষা’।

আষাঢ় ও শ্রাবণে ভর করে বর্ষা বিদায় নিয়েছে সেই কবে। আশ্বিনের হাত ধরে শরৎ এসেছে। রোববার আশ্বিনের ১৬ তারিখ। হেমন্তও আসি আসি করছে। কিন্তু প্রকৃতিতে এর কোনো প্রভাব নেই।

কেন এত বৃষ্টি? আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন মৌসুমী বায়ু সক্রিয় হওয়ার কারণেই এই মেঘ-বৃষ্টি। এটা দু’একদিনের মধ্যে কেটেও যাবে। তবে বৃষ্টির এই প্রবণতা কাটতে অপেক্ষা করতে হবে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত।

শুধু গত কয়েকদিন ধরেই নয় সদ্য শেষ হওয়া সেপ্টেম্বর মাসেও বৃষ্টি ছিল অস্বাভাবিক। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।

শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় সারাদেশেই বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে ময়মনসিংহে ১২৭ মিলিমিটার, ঢাকায় হয়েছে ৩১ মিলিমিটার।

রোববার সকালে কিছুটা রোদের দেখা মিললেও দুপুর হতেই মেঘে মেঘে ছেয়ে যায় ঢাকার আকাশ। এরপর থেমে থেমে বৃষ্টি। আবহাওয়া অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী রোববার দুপুর থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ঢাকায় ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। প্রায় সারাদেশেই বৃষ্টি হচ্ছে বলে আবহাওয়া অধিদফতর থেকে জানা গেছে।

তবে শরতে এই বৃষ্টি-বাদলের তীব্রতাকে বড় কোনো বিচ্যুতি বলতে নারাজ আবহাওয়াবিদরা। রোববার বিকেলে আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস জাগো নিউজকে বলেন, আশ্বিন মাসে পূজার সময়ে একটা বৃষ্টি হয়। আমি এটাকে অস্বাভাবিক বলব না। মৌসুমী বায়ু এখন বেশ সক্রিয় বাংলাদেশের ওপর। এ জন্যই বৃষ্টিটা হচ্ছে।’

তবে সেপ্টেম্বর মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি।

রুহুল কুদ্দুস আরও বলেন, ‘আগামী ১০ অক্টোবরের পর আর বৃষ্টির এই প্রবণতা থাকবে না। আশা করছি অক্টোবরের মাঝামাঝি মৌসুমী বায়ু (বর্ষা) বাংলাদেশ থেকে বিদায় নেবে। মৌসুমী বায়ু সাধারণত চার মাস অবস্থান করে। এবার ১৩ জুন মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশে এসেছে।’

অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আবহাওয়া অধিদফতর আগেই দিয়েছিল। শনিবার সন্ধ্যায় ভারী বর্ষণের সতর্কবাণীতে বলা হয়েছিল, সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর কারণে শরিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে বিক্ষিপ্তভাবে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

অপর দিকে সোমবার রাত ১ টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘন্টায় ৪৪ থেকে ৬০ কি.মি. বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আরএমএম/একে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।