সাইনবোর্ড বাংলায় না লিখলে কঠোর পদক্ষেপে যাচ্ছে ডিএনসিসি

আবু সালেহ সায়াদাত
আবু সালেহ সায়াদাত , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:১৩ পিএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৫:১৭ পিএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

রাজধানীর প্রায় সব এলাকাতেই বেশিরভাগ দোকান, শপিংমল, রেস্তোরাঁসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সাইনবোর্ড-নামফলকে বাংলা বর্ণের ছিটেফোঁটাও নেই।

অথচ ২০১৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশের সব সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার, গাড়ির নম্বরপ্লেট, দফতরের নামফলক বাংলায় লেখার নির্দেশ দেন আদালত। ২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে আদালত স্থানীয় সরকার বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন। পরে ২০১৪ সালের ২৯ মে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভার মাধ্যমে এটি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) এখতিয়ারাধীন এলাকার যেসব প্রতিষ্ঠানের (দূতাবাস, বিদেশি সংস্থা ও তৎসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র ব্যতীত) নামফলক, সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার বাংলায় লেখা হয়নি সেসব প্রতিষ্ঠানে বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে ডিএনসিসি’র ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ পদক্ষেপের কারণে যে সব এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে সেসব এলাকায় কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান নামফলক-সাইনবোর্ড বাংলা লিখেছে। কিন্তু রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকায় এখনও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ইংরেজিতে থেকে গেছে। রাজধানীর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডগুলোর দিকে তাকালে বোঝার উপায় থাকে না, এটি বাংলা ভাষাভাষী একটি দেশের রাজধানী শহর। অধিকাংশ সাইনবোর্ড বড় বড় ইংরেজি হরফে লেখা।

ইতোমধ্যে ডিএনসিসি’র আওতাধীন এলাকায় সব ধরনের সাইনবোর্ড, লিফলেট, ব্যানারে বাংলা লেখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ইংরেজি থাকলেও সেটি থাকতে হবে বাংলার পাশাপাশি। আর নিষেধাজ্ঞায় কাজ না হলে সংস্থাটির অভিযান অব্যহত থাকবে, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে জরিমানর পাশাপাশি বাংলা করতে নির্দেশ প্রদান করা হবে। আর এতেও কাজ না হলে শেষ মুহূর্তে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর সিদ্ধান্তেও যেতে পারে ডিএনসিসি। প্রথমে উচ্ছেদ অভিযান ও জরিমানার মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় এ সেবা সংস্থাটি। তবে এতেও যদি শতভাগ সফলতা না আসে তাহলে কঠোর শাস্তির চিন্তা-ভাবনা করছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রবীন্দ্র বড়ুয়া বলেন, এ বিষয়ে আমাদের অভিযান অব্যহত আছে, বছরের সব সময়ই এ অভিযান চলবে। এমন অভিযানের কারণে অনেকেই সচেতন হচ্ছেন, আবার অনেকেই নিজ উদ্যোগে সাইনবোর্ড-নামফলক-ব্যানার ইতোমধ্যে বাংলায় করেছেন। পরিবর্তন হচ্ছে তবে পুরোপুরি পরিবর্তন হতে আরও কিছু সময় লাগবে।

তিনি বলেন, কারো ব্যবসা বন্ধ করা আমাদের উদ্দেশ্য না, আমাদের লক্ষ্য সাইনবোর্ড-ব্যানার বাংলায় লেখা। সেজন্য প্রথম আমরা উচ্ছেদ অভিযান ও জরিমানা করছি। নিয়মিত অভিযান জরিমানা এবং সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়ার পরও যদি শতভাগ সফল না হই সেক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসব চেষ্টাতেও কাজ না হলে শেষ পর্যায়ে লাইসন্স বাতিলের সিদ্ধান্তও নিতে পারি।

এ বিষয়ে ডিএনসিসি’র প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা এ এস এম মামুন বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) এখতিয়ারাধীন এলাকার যেসব প্রতিষ্ঠানের (দূতাবাস, বিদেশি সংস্থা ও তৎসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র ব্যতীত) নামফলক, সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার ইত্যাদি বাংলায় লেখা হয়নি তা অবিলম্বে স্ব-উদ্যোগে অপসারণ করে বাংলায় লিখে প্রতিস্থাপন করতে বলা হয়েছে। সে লক্ষ্য জাতীয় দৈনিকে গণবিজ্ঞপ্তি এবং ডিএনসিসির ফেসবুক পেজে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এছাড়া জনসচেতনতা তৈরি করতে মাইকিং করেও বিষয়টি জানানো হচ্ছে।

উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, হাইকোর্ট বিভাগের ১৬৯৬/২০১৪ নং রিট পিটিশনে প্রদত্ত আদেশ অনুযায়ী সব প্রতিষ্ঠানের (দূতাবাস, বিদেশি সংস্থা ও তৎসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র ব্যতীত) নামফলক, সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার ইত্যাদি বাংলায় লেখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু লক্ষ করা যাচ্ছে যে, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের নামফলক, সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার ইত্যাদি ইংরেজি ও অন্যান্য বিদেশি ভাষায় লেখা হয়েছে। এমতাবস্থায় ডিএনসিসির এখতিয়ারাধীন এলাকার যাবতীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ অবস্থায় হাইকোর্টের আদেশ এবং ডিএনসিসির গণবিজ্ঞপ্তি বাস্তবায়ন না করার অপরাধে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯ অনুযায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানা করা হচ্ছে।

ডিএনসিসি এলাকায় এসব অভিযানেগুলোতে অংশ নেন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল ৫) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম অজিয়র রহমান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের এ অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। নামফলক, সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার বাংলায় লেখেননি তাদের বিরুদ্ধে আমাদের আমাদের অভিযান চলবে। এ বিষয়ে আমারা সবাইকে সচেতন করার পাশাপাশি পুরো ডিএনসিসি এলাকার আওতাধীন শতভাগ প্রতিষ্ঠানগুলোর সাইনবোর্ড নামফলক বাংলায় করতে চাই। সচেতনতা তৈরি, আদেশ, এবং অভিযানের পরও যদি কেউ কথা শুনে তাহলে শেষ মুহূর্তে তাদের লাইসেন্স বাতিলও করা হতে পারে।

তিনি জানান, যখন আমরা কোনো প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স প্রদান করি সেখানেই অতিরিক্ত একটি সিল দিয়ে ট্রেড লাইসেন্সে লেখা থাকে, ‘সাইনবোর্ড-ব্যানার বাংলায় লিখতে হবে’।

এএস/এমবিআর/আরআইপি